পৃথিবীর নানা প্রান্তের বর্ষবরণ: রীতি ভিন্ন হলেও আনন্দ এক
বাঙালির নতুন বছর মানে পয়লা বৈশাখ। তবে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের অনুসরণে বিশ্বব্যাপী উদযাপন করা হয় ১ জানুয়ারি। এক এক দেশের নতুন বছর উদযাপন একেক রকম। সেসব ঐতিহ্য একেবারেই তাদের নিজস্ব।
অনেক দেশই নববর্ষ পালনে নিজেদের ঐতিহ্যবাহী প্রথার জন্য বিখ্যাত। যেমন, কিছু জায়গা আছে যেখানে নতুন বছরে একে অপরকে এক ডজন আঙুর খাওয়ান। কিছু জায়গায় আবার নতুন বছরে বিশেষ ধরনের অন্তর্বাস পরতে হয়। তাদের বিশ্বাস, এই ধরনের অন্তর্বাস সৌভাগ্য নিয়ে আসে। বিষয়টি হাস্যকর মনে হলেও এটি বাস্তবে ঘটে।
পৃথিবীর নানা প্রান্তে মানুষ বছরের শেষ রাতটাকে একেবারে ভিন্নভাবে উদযাপন করে। কেউ বিশ্বাস করে আলু দিয়ে ভবিষ্যৎ জানা যায়, কেউ আঙুর খেয়ে সৌভাগ্য কামনা করে, আবার কেউ থালা ভাঙে বন্ধুদের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও ভাগ্য বাড়ানোর জন্য।
কলম্বিয়ার নতুন বছর শুরু আগের রাতটা সত্যিই আলাদা। পরিবারের প্রতিটি সদস্যের খাটের নিচে রাখা হয় তিনটি আলু—একটি পুরো খোসাসহ, একটি খোসা ছাড়া, আর একটি অর্ধেক খোসা ছাড়া। এই প্রথার নাম ‘আগুয়েরো’। মধ্যরাতে চোখ বন্ধ করে যে আলুটি কেউ তুলে নেয়, সেটাই বলে দেয় আসন্ন বছরের আর্থিক ভাগ্য। খোসা ছাড়া আলু মানে কিছুটা টানাপোড়েন, খোসাসহ আলু মানে সমৃদ্ধি, আর অর্ধেক খোসা মানে ওঠানামা। এই ছোট্ট খেলার মধ্যেও মানুষের আশা থাকে নতুন বছর যেন ভালো হয়।
স্পেনে নতুন বছরের আগের রাতটা হয় রুদ্ধশ্বাস। ১২টি আঙুর, ১২টি ঘণ্টা—প্রতিটি আঙুর একটি মাসের প্রতীক। কেউ যদি ঠিক সময়ে সব আঙুর খেতে পারে, নতুন বছর তার জন্য সৌভাগ্যপূর্ণ হবে-এমনটাই মনে করা হয়। এটি কেবল একটি মজা নয়, এটি স্প্যানিশ সমাজে শতাব্দীর পুরোনো রীতি, যা মানুষকে আনন্দ আর আশা দেয়।
ডেনমার্কে নতুন বছরের আগের রাতে বন্ধুর দরজায় ভাঙা থালা রাখার রীতি রয়েছে। যত বেশি থালা ভাঙা, তত বেশি সৌভাগ্য বলে ধরা হয়। কেউ কেউ আবার নতুন বছরের সকালে চেয়ারের ওপর দাঁড়িয়ে লাফ দিয়ে প্রার্থনা করেন।
জাপানে নতুন বছরকে ঘিরে বৌদ্ধ মন্দিরে মোট ১০৮ বার ঘণ্টা বাজে। প্রতিটি ঘণ্টাধ্বনি মানুষের দুর্বলতা ও অশুভ ছায়া দূর করার প্রতীক। এটি একটি ধ্যানের মতো অভ্যাস, যা মানসিক শান্তি এবং নতুন বছরের আত্মশুদ্ধি নিশ্চিত করে।
গ্রিসে পোমোগ্রানেট ভাঙা, ফিলিপাইনে ১২টি গোলাকার ফল সাজানো, ল্যাটিন আমেরিকায় বিশেষ রঙের আন্ডারওয়্যার পরার মতো বিভিন্ন আচার আছে। প্রত্যেকটির কেন্দ্রে একটি সাধারণ অনুভূতি কাজ করে নতুন বছর যেন আগের বছরের থেকে ভালো হয়, সুখ, শান্তি আর সমৃদ্ধি নিয়ে আসে।
বিশ্বের মানুষ যেভাবে আলু, আঙুর, থালা ভাঙা বা ঘণ্টাধ্বনি দিয়ে নতুন বছর উদযাপন করে, তা প্রমাণ করে—যদিও রীতি ভিন্ন, মানুষের আশা, স্বপ্ন আর আনন্দের উৎসব একই রকম। নতুন বছর মানে নতুন আশা, নতুন সুযোগ এবং নতুন শুরু।