ঘন কুয়াশা-শীতে বিপর্যস্ত পঞ্চগড়
পঞ্চগড়ে টানা ঘন কুয়াশা
ও কনকনে শীতে জনজীবন ক্রমেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। জেলার তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা কিছুটা
ওঠানামা করলেও বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতা এবং দীর্ঘ সময় ধরে কুয়াশা থাকার কারণে শীতের
তীব্রতা বেড়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, যানবাহন চালক,
শিশু ও বয়স্করা।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর)
সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়
১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল শতভাগ। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত সড়ক,
মাঠ ও ঘাট ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকায় দৃষ্টিসীমা মারাত্মকভাবে কমে যায়। ফলে যানবাহনগুলোকে
হেডলাইট জ্বালিয়ে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে দেখা গেছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেদিনও বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ১০০ শতাংশ। ঘন কুয়াশার কারণে সকাল পর্যন্ত স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।
তবে বিকেলের দিকে অল্প সময়ের জন্য সূর্যের দেখা মিলেছিল। বৃহস্পতিবার দিনের
সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সন্ধ্যার পর থেকে আবার শীতের দাপট
বাড়তে থাকে, সঙ্গে বৃষ্টির মতো শিশির ঝরতে থাকে।
টানা কুয়াশা ও তীব্র শীতে
সকালে অনেকেই কাজে যেতে পারছেন না। শীত নিবারণে বিভিন্ন এলাকায় মানুষকে খড়কুটো জ্বালিয়ে
আগুন পোহাতে দেখা গেছে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী,
চলতি শীত মৌসুমে তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল গত ১১ ডিসেম্বর। সেদিন তাপমাত্রা নেমে আসে ৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা এ মৌসুমে দেশের সর্বনিম্ন
তাপমাত্রা ছিল।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ
কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে
মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেলেও আবার তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, ‘আজ সকাল ৯টায়
তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে এবং বাতাসের আর্দ্রতা
ছিল শতভাগ।’