ঘূর্ণিঝড় বায়রনে বিপর্যস্ত গাজা
শীতকালীন প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বায়রনের’ প্রভাবে গাজা উপত্যকায় ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। ঝড় ও তীব্র শীতের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় দুই শিশুসহ অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাস্তুচ্যুত গাজার মানুষজন। এ পরিস্থিতিতে প্রায় আট লাখ ফিলিস্তিনি বন্যার ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।
ঝড়ের তাণ্ডবে উপত্যকার অনেক সড়ক ও তাঁবুবাসীদের এলাকা টানা বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়েছে। কয়েকটি ভবনও ধসে পড়েছে। তবে অস্থায়ী তাঁবুগুলো ঝড়-বৃষ্টিতে নিরাপদ না হওয়ায় অনেক মানুষ বাধ্য হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতেই আশ্রয় নিচ্ছেন যা ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে।
জাতিসংঘ জানায়, গাজায় প্রায় ৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষের আবাসস্থলের ৭৬১টি শরণার্থী শিবির বন্যার সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কায় ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষ স্থানান্তরিত হয়েছে।
একই সঙ্গে
জাতিসংঘ ও ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৫ লাখ গাজাবাসী এখনও বাস্তুচ্যুত
অবস্থায় রয়েছে; তাদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে অন্তত ৩ লাখ নতুন তাঁবুর প্রয়োজন। কিন্তু
বর্তমানে থাকা বেশিরভাগ আশ্রয়কেন্দ্রই জীর্ণ, পাতলা প্লাস্টিক ও কাপড়ের চাদর দিয়ে তৈরি যা
শীত, বৃষ্টি ও ঝড় সামলাতে অক্ষম।
অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি
কার্যকর থাকলেও গাজাবাসীর জীবনযাত্রা এখনও অত্যন্ত নাজুক। যুদ্ধের দীর্ঘ সময় ধরে গাজার
বড় অংশের অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধাক্কা আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে
বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।