থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্ত সংঘাতে নিহত ৭
চার মাসের স্থিতাবস্থার পর গত রবিবার থেকে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার প্রতিবেশী দুই দেশ থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সীমান্ত এলাকায় আবারও সংঘাত শুরু হয়েছে। দু’দিনের লড়াইয়ে দুই দেশে অন্তত ৭ জন নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন পক্ষের তথ্য থেকে জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে ৬ জন কম্বোডিয়ার এবং একজন থাইল্যান্ডের।
কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাতে সীমান্ত এলাকায় থাই বাহিনীর ছোড়া গোলায়
২ জন বেসামরিক নিহত হন। এতে দুই দিনে কম্বোডিয়ায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ জনে। অন্যদিকে থাইল্যান্ডে নিহত ব্যক্তি দেশটির সেনাবাহিনীর একজন সদস্য।
বেসামরিক লোকজনের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত সোমবার রাতে এক বিবৃতিতে বলেন, থাইল্যান্ড সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের নাটক সাজিয়ে কম্বোডিয়ার সাধারণ বেসামরিক গ্রামবাসীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে এটা গ্রহণযোগ্য নয়।
এদিকে মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে থাইল্যান্ডের নৌবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, দেশটির উপকূলবর্তী ত্রাত প্রদেশের জলসীমায় কম্বোডীয় সেনা উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার পর থাই নৌ সদস্যরা তাদের ধাওয়া দিলে কম্বোডীয় বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কম্বোডীয় বাহিনী স্থল ও জলসীমান্তে ভারী অস্ত্র ও স্নাইপার
মোতায়েন, সুরক্ষিত অবস্থান জোরদার এবং সীমান্ত এলাকায় পরিখা খননের মতো তৎপরতা চালাচ্ছে। থাই নৌবাহিনীর ভাষ্য, এসব পদক্ষেপকে তারা থাইল্যান্ডের সার্বভৌমত্বের প্রতি সরাসরি ও গুরুতর
হুমকি হিসেবে দেখছে।
সংঘাতের পেছনে রয়েছে ‘এমারেল্ড ট্রায়াঙ্গল’ বা ‘পান্না ত্রিভুজ’ নামে পরিচিত
একটি সীমান্তভূখণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ। থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও লাওসের সীমানা
মিলিত হয়েছে এই এলাকায়। প্রাচীন মন্দির ও ধর্মীয় স্থাপনাসমৃদ্ধ এই অঞ্চলকে থাইল্যান্ড
ও কম্বোডিয়া উভয় দেশই নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে আসছে।
ঐতিহাসিকভাবে, গত শতকের প্রথম দশকে ফরাসি উপনিবেশ থাকা কম্বোডিয়ার একটি মানচিত্র ১৯০৭ সালে ফ্রান্স প্রকাশ করে, যেখানে পান্না ত্রিভুজকে কম্বোডিয়ার অংশ হিসেবে দেখানো হয়। তখন থেকেই থাইল্যান্ড এ মানচিত্রের বিরোধিতা করে। ১৯৫৩ সালের ৯ নভেম্বর কম্বোডিয়া স্বাধীন হলেও বিরোধের অবসান হয়নি বরং স্বাধীনতার পরও অঞ্চলটি কম্বোডিয়ার দখলে থাকায় দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হতে সময় লাগে।
দীর্ঘদিনের সীমান্ত উত্তেজনার
পর ১৫ বছর আগে যুদ্ধবিরতি হলেও গত বছর মে মাস থেকে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হতে থাকে। উত্তেজনার ধারাবাহিকতায় গত জুলাইয়ের শেষ দিকে পাঁচ দিনের সংঘাতে দুই দেশের ৪৮ জন নাগরিক
নিহত হন এবং প্রায় ৩ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হন। পরে যুক্তরাষ্ট্র
ও মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় দুই দেশ।
চার মাসের বেশি সময় তুলনামূলক শান্ত থাকার পর রবিবার (৭ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পর থাই সীমান্তবর্তী সি সা কেত প্রদেশে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। থাই দৈনিক ব্যাঙ্কক পোস্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওইদিন জাতিসংঘে কম্বোডিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানায় থাইল্যান্ড সীমান্ত এলাকায় থাই ভূখণ্ডে গোপনে ব্যাপক পরিসরে ল্যান্ডমাইন পাতা হয়েছে বলে দাবি করে তারা।
এই অভিযোগ তোলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে
কম্বোডীয় বাহিনী সীমান্ত লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে, এতে দুই থাই সেনা আহত হন। জবাবে থাই
প্রতিরক্ষা বাহিনী কম্বোডিয়ার ভেতরে বিমান অভিযান পরিচালনা করে এরপর থেকেই সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করে।