সিরিয়ায় আইএসের হামলায় নিহত ৩
সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএস)–এর এক হামলায় দুই মার্কিন সেনাসহ এক বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত তিন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।
সেন্টকম জানায়, এটি ছিল একজন আইএস বন্দুকধারীর একক অতর্কিত হামলা। পরে সংঘর্ষে হামলাকারীও নিহত হন। নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করেনি সেন্টকম। পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে আইএসই হামলাটি চালিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিকভাবে দায় স্বীকার করেনি।
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন
পার্নেল বলেন, দেশটির মধ্যাঞ্চলের ঐতিহাসিক শহর পালমিরা এলাকায় হামলার ঘটনাটি ঘটে। ওই সময় মার্কিন সেনারা গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক পরিচালনা করছিলেন। হামলার বিষয়টি
তদন্তাধীন রয়েছে বলেও জানায় পেন্টাগন। তিনি আরও বলেন, হামলাটি এমন একটি এলাকায়
হয়েছে, যেখানে সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের নিয়ন্ত্রণ নেই। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের
দাবি, ঘটনায় দুইজন সিরীয় নিরাপত্তা সদস্যও আহত হয়েছেন।
এদিকে এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্র ও সিরিয়ার বিরুদ্ধে
আইএসের হামলা এর জবাবে কঠোর প্রতিশোধ নেওয়া হবে। তিনি জানান, আহত তিন সেনার অবস্থা
স্থিতিশীল।
অন্যদিকে যুক্তরাজ্যভিত্তিক
সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস দাবি করেছে, হামলাকারী সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীর
একজন সদস্য ছিলেন। তবে হামলাকারীর পরিচয় বা সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে সরকারি কোনো নিশ্চিত
তথ্য এখনো প্রকাশ হয়নি।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী
পিট হেগসেথ এক বিবৃতিতে বলেন, বিশ্বের যে কোনো স্থানে যারা আমেরিকানদের লক্ষ্য করবে,
যুক্তরাষ্ট্র তাদের খুঁজে বের করবে এবং কঠোর ব্যবস্থা নেবে। সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী
আসআদ আল-শাইবানী হামলার নিন্দা জানিয়ে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত ও তুরস্কে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাকও
মধ্য সিরিয়ায় যৌথ টহলের উপর হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী হামলা’বলে উল্লেখ করে
এর তীব্র নিন্দা জানান।