সরকারবিরোধী বিক্ষোভে তেহরানে নিহত ২০০ ছাড়াল
ইরানে টানা দুই সপ্তাহের
বিক্ষোভ বুধবার (৭ জানুয়ারি) থেকে তীব্র হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা সরকার পতন ও সর্বোচ্চ
নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির পদত্যাগ দাবি করছেন। খামেনি সতর্ক করে বলেছেন, ‘ধ্বংসাত্মক
কর্মকাণ্ডে’ জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর হবে। এর পর বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাত
থেকে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড অভিযান জোরদার করে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি)
টাইম ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানে এক রাতে গুলিতে ২০০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী
নিহত হয়েছেন।
ওই প্রতিবেদনে টাইম ম্যাগাজিন
জানিয়েছে, নাম গোপন রাখার শর্তে তেহরানের এক চিকিৎসক তাদের জানিয়েছেন-শুধুমাত্র তেহরানের
ছয়টি হাসপাতালে ২০৬ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে। যাদের বেশিরভাগ গুলিতে
প্রাণ হারিয়েছেন।
সাময়িকীটি আরও বলা হয়,
যদি মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হয় তাহলে ধারণা করা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিকে তোয়াক্কা না করে এবার বিক্ষোভকারীদের দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে
ইরান সরকার। তিনি হুমকি দিয়েছিলেন, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে তাহলে খামেনি
সরকারকে চড়া মূল্য দিতে হবে।
ওই চিকিৎসক টাইমস ম্যাগাজিনকে
আরও বলেছেন, শুক্রবার হাসপাতাল থেকে এসব মরদেহ সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, উত্তর
তেহরানের একটি পুলিশ স্টেশনের বাইরে বিক্ষোভকারীদের মেশিনগান থেকে ব্রাশফায়ার করা হয়েছে।
সেখানে অন্তত ৩০ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। নিহতদের বেশিরভাগ তরুণ বলে জানিয়েছেন এ চিকিৎসক।
তবে, হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে
যাচাই করতে পারেনি বলে জানিয়েছে টাইমস ম্যাগাজিন।
বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ায় এবং
সংঘর্ষ আরও সহিংস হয়ে ওঠায় বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে শুক্রবার কঠোর ভাষায় বক্তব্য দেন
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।
তিনি বলেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র
শত শত হাজার সম্মানিত মানুষের রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যারা এটাকে ধ্বংস করতে
চায়—‘এমন শক্তির সামনে ইরান কখনোই মাথা নত করবে না।’
বিক্ষোভকারীদের ওপর মার্কিন
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুশি করার অভিযোগও তোলেন তিনি।
এছাড়া তেহরানের পাবলিক
প্রসিকিউট বলেন, ‘যারা নাশকতা চালাবে বা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াবে, তাদেরকে
মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট
ডোনাল্ড ট্রাম্পও এ অবস্থায় ইরান সরকারকে নতুন করে হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা
গুলি চালানো শুরু করো না, কারণ তাহলে আমরাও গুলি চালানো শুরু করব। আমি শুধু আশা করি
ইরানের বিক্ষোভকারীরা নিরাপদ থাকবে, কারণ জায়গাটি এই মুহূর্তে খুবই বিপজ্জনক।’