যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছে ১২ লাখ রুশ সেনা: ইউক্রেনের জেনারেল
ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর
থেকে রাশিয়া প্রায় ১২ লাখ ১ হাজার ২৩০ জন সেনা হারিয়েছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেনের
সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে
জানানো হয়, ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
সর্বশেষ একদিনেই রুশ বাহিনীর অন্তত ৮৬০ জন সেনা হতাহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
ইউক্রেনীয় জেনারেল স্টাফের বরাতে দেশটির
সংবাদমাধ্যম কিয়েভ ইনডিপেনডেন্ট জানায়, মানব ক্ষতির পাশাপাশি সামরিক সরঞ্জামেও
রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের শুরু থেকে এখন
পর্যন্ত রাশিয়া হারিয়েছে ১১ হাজার ৪৫৬টি ট্যাংক, ২৩ হাজার ৮০১টি সাঁজোয়া যুদ্ধযান
এবং ৭১ হাজার ২৭৪টি যানবাহন ও জ্বালানি ট্যাংক। এ ছাড়া ধ্বংস হয়েছে ৩৫ হাজার ৪৩৫টি
আর্টিলারি সিস্টেম।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ইউক্রেনীয়
বাহিনীর অভিযানে রাশিয়ার ১ হাজার ৫৭৯টি মাল্টিপল লঞ্চ রকেট সিস্টেম, ১ হাজার ২৬৩টি
আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ৪৩৪টি যুদ্ধবিমান এবং ৩৪৭টি হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়েছে।
পাশাপাশি রাশিয়া হারিয়েছে ৯৪ হাজার ৭৯৭টি ড্রোন, ৪ হাজার ১০৭টি ক্রুজ
ক্ষেপণাস্ত্র, ২৮টি জাহাজ ও নৌযান এবং দুটি সাবমেরিন।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ২৪ ডিসেম্বর
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যে
প্রস্তাবিত একটি খসড়া শান্তি পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। ২০ দফার এই
প্রস্তাবের লক্ষ্য রাশিয়ার সঙ্গে চলমান পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের অবসান ঘটানো। তবে প্রস্তাবের
১২ ও ১৪ নম্বর ধারা নিয়ে এখনো সমাধান আসেনি।
ওই দুই ধারায় দখলকৃত ভূখণ্ডের ভবিষ্যৎ এবং
গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে,
যেগুলোকে ইউক্রেন অস্তিত্বগত ইস্যু হিসেবে দেখছে। এসব বিষয়েই মূলত শান্তি আলোচনায়
অচলাবস্থা বিরাজ করছে।