একযোগে ৩০ রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করছে ট্রাম্প প্রশাসন
বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসগুলো থেকে প্রায় ৩০ জন রাষ্ট্রদূত
এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন পেশাদার কূটনীতিককে প্রত্যাহার করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের
প্রশাসন।
ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অগ্রাধিকারের বিষয়গুলোর প্রতিফলন নিশ্চিত করতে নেওয়া
হচ্ছে এ পদক্ষেপ। তবে সমালোচকরা বলছেন, এতে
বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হবে।
যেসব কূটনীতিককে প্রত্যাহার করা হচ্ছে তাদের তালিকা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে মার্কিন
পররাষ্ট্র দপ্তর।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, এই পদক্ষেপ ‘যে কোনও প্রশাসনের
জন্য এক নিয়মমাফিক প্রক্রিয়। ’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পররাষ্ট্রদপ্তরের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘একজন রাষ্ট্রদূত প্রেসিডেন্টের
ব্যক্তিগত প্রতিনিধি। আর দেশগুলোতে আমেরিকা
সর্বাগ্রে কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো ব্যক্তিরা থাকবেন, সেটি নিশ্চিত করার অধিকার
প্রেসিডেন্টের আছে।’
সংশ্লিষ্ট কয়েকজন জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনে ফিরে আসার নির্দেশ যাদেরকে দেওয়া হয়েছে, তাদের
মধ্যে প্রায় ৩০ জন ঊর্ধ্বতন কূটনীতিক রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের আরেক কর্মকর্তা বলেছেন, প্রত্যাহার করা কূটনীতিকদেরকে পররাষ্ট্রদপ্তরে
নতুন দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এই কূটনীতিকদের
কয়েকজনকে কোনও ব্যাখ্যা ছাড়াই ফোনে প্রত্যাহারের কথা জানানো হয়েছে।
এদিকে পররাষ্ট্রদপ্তরের কর্মকর্তাদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ‘আমেরিকান
ফরেন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন’ জানিয়েছে, কোন সদস্যদের প্রত্যাহার করা হয়েছে, তা নিশ্চিত
করতে তারা কাজ করছে।
সংগঠনটির মুখপাত্র নিকি গেমার কূটনীতিক প্রত্যাহারের এই প্রক্রিয়াকে ‘খুবই অস্বাভাবিক’
বলে অভিহিত করেছেন। এক ই–মেইলে তিনি বলেন,
‘হঠাৎ কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই কূটনীতিক প্রত্যাহার করার এই প্রক্রিয়া প্রাতিষ্ঠানিক রাজনীতিকরণের
নমুনার প্রতিফলন, যা বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’
গেমারের এই বক্তব্যের বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রদপ্তর।