ইউক্রেনে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৭ নিহত, শিশুসহ আহত ২৬!
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে দুইজন শিশু রয়েছে-এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি জানান, আরও ২৬ জন আহত হয়েছে, যা প্রমাণ করে মস্কোর ওপর যুদ্ধ থামাতে যথেষ্ট আন্তর্জাতিক চাপ এখনো সৃষ্টি হয়নি।
এই ভয়াবহ হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার (২২ অক্টোবর) ঘোষণা দেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার আসন্ন বুদাপেস্ট সম্মেলন ‘স্থগিত’ করা হয়েছে, কারণ তিনি ‘অর্থহীন বৈঠক’ করে সময় নষ্ট করতে চান না। ক্রেমলিন অবশ্য ট্রাম্প ও ইউরোপীয় নেতাদের বর্তমান ফ্রন্টলাইন বরাবর যুদ্ধবিরতির আহ্বান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
এদিকে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাজ্যনির্মিত ‘স্টর্ম শ্যাডো’ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রাশিয়ার সীমান্তবর্তী ব্রায়ান্স্ক অঞ্চলের একটি রাসায়নিক কারখানায় হামলা চালিয়েছে। সেনা কর্মকর্তারা একে ‘সফল হামলা’ বলে উল্লেখ করে জানান, এটি রুশ বিমান প্রতিরক্ষা ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। ওই ব্রায়ান্স্ক কারখানায় ‘গানপাউডার, বিস্ফোরক এবং রকেটের জ্বালানির উপাদান’ তৈরি হয়-যেগুলো ইউক্রেনের ওপর হামলায় ব্যবহৃত গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্রে ব্যবহৃত হয়।
জেলেনস্কি জানান, তিনি বুধবার সুইডিশ প্রতিরক্ষা ঠিকাদার সাব-এর কার্যালয় পরিদর্শনে যাওয়ার কথা থাকলেও, গত শুক্রবার ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক শেষে দেশে ফিরেছেন-যেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে দূর-পাল্লার ‘টমাহক’ ক্ষেপণাস্ত্র চেয়ে ব্যর্থ হন। জেলেনস্কির ভাষায়, ‘যেই মুহূর্তে দূর-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পাওয়ার সম্ভাবনা ইউক্রেনের জন্য কিছুটা দূরে সরে গেল, প্রায় সেই মুহূর্ত থেকেই রাশিয়া কূটনীতিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলল।’
রাজধানী কিয়েভে মঙ্গলবার রাতভর একের পর এক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে শহর। ২৮ সেপ্টেম্বরের পর এটিই ছিল কিয়েভে প্রথম বড় ধরনের হামলা। এক দম্পতি (৬০-এর কোঠায়) তাদের বহুতল ভবনে ড্রোন হামলায় নিহত হন। কিয়েভ অঞ্চলে আরও চারজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন নারী, ছয় মাস বয়সী শিশু ও ১২ বছর বয়সী মেয়ে ছিল।
খারকিভ শহরের মেয়র ইহোর তেরেখভ জানান, সেখানে ড্রোন হামলায় ৪০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত ও আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন কিন্ডারগার্টেনও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে এবং শিশুদের মধ্যেও আহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
রাজধানী রাতভর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কবার্তার আওতায় ছিল, শহরজুড়ে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। সকালে উদ্ধারকর্মীরা বিভিন্ন আবাসিক ভবনে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। ইউক্রেনজুড়ে রুশ হামলার লক্ষ্য ছিল জ্বালানি অবকাঠামো, তাই একাধিক অঞ্চলে জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়েছে।