ইসরায়েলকে গাজা দখল অভিযান বন্ধের নির্দেশ!
ইসরায়েলকে গাজা দখল অভিযান বন্ধ করে সামরিক কার্যক্রম নিম্নগতিতে নামানোর নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সরকার—এ খবর সম্প্রচার করেছে রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে চলা ও সেনাবাহিনী পরিচালিত আর্মি রেডিও। খবরটি প্রকাশের পর ইসরায়েলি রাজনৈতিক মহলে এবং আন্তর্জাতিক কিছু সূত্রে তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
আর্মি রেডিওর প্রতিবেদক ডরোন কাদোসের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সরকার সেনাবাহিনীকে গাজায় সামরিক কার্যক্রম ‘সর্বনিম্ন’ পর্যায়ে নামিয়ে এনে শুধুমাত্র ‘প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ’ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। কাদোস এক পোস্টে বলেন, “এর বাস্তবিক অর্থ হলো — গাজা সিটি দখলের অভিযান বন্ধ রয়েছে এবং আপাতত তা স্থগিত করা হয়েছে।”
এই নির্দেশনা আসে এমন এক প্রেক্ষাপটে যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকালে এক প্রস্তাব পেশ করেন এবং হামাস প্রস্তাবটি আংশিকভাবে গ্রহণের ঘোষণা দেয়। ট্রাম্প সেই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে ইসরায়েলকে “তৎক্ষণিকভাবে গাজায় বোমাবর্ষণ বন্ধ” করার আহ্বান জানান—যাতে জিম্মিদের দ্রুত ও নিরাপদে মুক্ত করা সম্ভব হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ট্রাম্পের ওই নির্দেশনার পরই ইসরায়েলি সরকার ওই নির্দেশনা বহন করে—যার ফলে সামরিক কর্মকাণ্ডকে কেবল প্রতিরক্ষা পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে আর্মি রেডিও জানিয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতিতে জাতীয় পর্যায়ের একটি বিবৃতি জানানো হয়েছে যে, হামাস ট্রাম্পের প্রস্তাব মেনে সব জিম্মিকে ছেড়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করলে ইসরায়েলও পরিকল্পনার প্রথম ধাপ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
উল্লেখ্য, ট্রাম্প হামাসকে তার প্রস্তাব মেনে নেওয়ার সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছেন—রোববার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে প্রস্তাব গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছিলেন তিনি; নয়তো হামাসকে ‘কঠোর ফল ভোগ’ করতে হবে—এ ধরনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন। সময়সীমা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হামাস এক বিবৃতিতে প্রস্তাব আংশিকভাবে মেনে নেওয়ার কথা ঘোষণা করে; জিম্মিদের মুক্তি দেওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করা হয়—যদিও প্রস্তাবের কিছু শর্ত নিয়ে তারা আরও আলোচনার দাবি রাখে।
এই ধারা বজায় থাকলে সাম্প্রতিককালের উত্তপ্ত অবস্থা—যা সফলভাবে শান্তির পথে ফিরে আসছে বলে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে—তার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। সরকারের নির্দেশনা ও হামাস-ট্রাম্প সংক্রান্ত গতিপ্রকৃতি আগামী সময়ে বিবেচ্য হবে বলেই বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন।