গাজায় নতুন সংকট ঘূর্ণিঝড় বায়রন
গাজার ফিলিস্তিনিদের জন্য নতুন দুর্ভোগের হুমকি দিচ্ছে ঘূর্ণিঝড় বায়রন। শীতকালীন এই ঝড়ের কারণে অবরুদ্ধ অঞ্চলটিতে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে বেশ কিছু সংখ্যক তাঁবু প্লাবিত হয়েছে। এসব তাঁবুর পরিবারগুলো সাহায্যের জন্য আবেদন জানাচ্ছে। সেই সাথে শত শত মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে তাদের আশ্রয়স্থল ছেড়ে যেতে যাচ্ছে।
আবহাওয়া কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরার খবরে
বলা হয়েছে, শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) পর্যন্ত এই ঝড় আকস্মিক বন্যা, তীব্র বাতাস ও শিলাবৃষ্টির
কারণ হতে পারে।
যুদ্ধের কারণে গাজার জনগণ এমনিতেই মানবিক সংকটে রয়েছে। লাখ লাখ বাস্তুচ্যুত
মানুষ তাঁবু, অস্থায়ী কাঠামো বা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে বসবাস করছে। এরই মধ্যে এ ধরনের পরিস্থিতি
ব্যাপক বিপর্যয় ডেকে আনবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মানবিক কর্মীরা জানিয়েছেন, তাঁবু ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা মেরামতের সরঞ্জাম
প্রবেশের ওপর ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞার কারণে গাজার এই ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার প্রস্তুতি
অত্যন্ত দুর্বল। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণসামগ্রী
প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার জন্য নেতানিয়াহু সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার আহ্বান জানিয়েছেন।
দক্ষিণের রাফা শহরে, ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, তাদের দলগুলো
এরই মধ্যে বাস্তুচ্যুতদের ক্যাম্পগুলো থেকে সাহায্যের জন্য জরুরি কল পেয়েছে। প্রবল
বৃষ্টির কারণে তাঁবু প্লাবিত হয়েছে এবং পরিবারগুলো ভেতরে আটকা পড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
জাতিসংঘের মানবিকবিষয়ক সমন্বয় কার্যালয়ের (ওসি এইচএ) হিসাব অনুযায়ী,
৭৬১টি বাস্তুচ্যুত আশ্রয়স্থলে থাকা প্রায় সাড়ে ৮ লাখ মানুষ বন্যায় সবচেয়ে বেশি
ঝুঁকিতে রয়েছে।