বিক্ষোভে উত্তাল ইরান, অনড় খামেনি
ইরানি রিয়ালের ব্যাপক দরপতনসহ গভীর অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে টানা বিক্ষোভ
করছেন দেশটির জনগণ। এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেছেন, বিক্ষোভের
মুখেও পিছু হটবে না ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির প্রসঙ্গে
খামেনি বলেন, ট্রাম্পের হাত রক্তে রাঙা।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর খবরে দেখা যায়, দুই সপ্তাহ ধরে দেশটিতে বিক্ষোভ
চলছে। এরই মধ্যে ৩১টি প্রদেশের শতাধিক শহরে এ বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার বিভিন্ন
সরকারি ভবন ও রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে অগ্নিসংযোগ করেছেন বিক্ষোভকারীরা। এ সময় ‘স্বৈরাচারের মৃত্যু’, ‘খামেনির মৃত্যু’ চাইসহ বিভিন্ন
ধরনের স্লোগান দিতে দেখা যায় বিক্ষোভকারীদের। বৃহস্পতিবার রাতভর দেশটির বড় বড় সব শহরে
সরকারবিরোধী বিক্ষোভ করেছেন হাজারও মানুষ।
ইন্টারনেট পর্যবেক্ষক সংস্থা নেটব্লকসের দাবি, ইরানি কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার
গভীর রাতে পুরোপুরি ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। সংস্থাটি শুক্রবার ভোরের দিকে
বলেছে, ব্যাপক বিক্ষোভ দমনের চেষ্টায় দেশটি ১২ ঘণ্টা ধরে অফলাইনে রয়েছে।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সাড়ে চার দশকের ইতিহাসে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ
এই বিক্ষোভ। প্রকাশ্যেই ধর্মতান্ত্রিক শাসনের অবসান দাবি জানিয়েছেন তারা।
যদিও রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভাষণে খামেনি বিক্ষোভকারীদের ‘ধ্বংসকারী’ ও ‘নাশকতাকারী’ হিসেবে আখ্যায়িত
করেছেন।
তিনি বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাত ‘এক হাজারের বেশি
ইরানির রক্তে রঞ্জিত’। ইসরায়েলের জুনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র
সমর্থন দিয়েছে এবং হামলায় অংশ নিয়েছে।
তিনি বলেন, সবাই জানেন, শত সহস্র সম্মানিত মানুষের রক্তের বিনিময়ে ইসলামি
প্রজাতন্ত্র ক্ষমতায় এসেছে; নাশকতাকারীদের সামনে তারা পিছু হটবে না।
এদিকে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ট্রাম্প বলেছেন, ইরানি শাসনব্যবস্থা উৎখাতে
অবিশ্বাস্য উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে, তাহলে
আমরা তাদের খুব কঠোরভাবে আঘাত করব। আমরা প্রস্তুত।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার অভিযোগ, চলমান বিক্ষোভে কর্তৃপক্ষ
বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে এবং এতে অন্তত ৪৫ জন নিহত হয়েছেন। তবে তেহরান
থেকে পাওয়া সর্বশেষ ভিডিওতে নিরাপত্তা বাহিনীকে বিক্ষোভকারীদের ওপর দমনপীড়ন চালাতে
দেখা যায়নি।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবে উৎখাত হওয়া ইরানের শাহর ছেলে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক
রেজা পাহলভি বৃহস্পতিবার বড় বিক্ষোভের আহ্বান জানিয়েছিলেন। শুক্রবার রাস্তায় নতুন করে
শক্তি প্রদর্শনেরও আহ্বান জানান তিনি।
শুক্রবার আরও বড় বিক্ষোভের ডাক দিয়ে তিনি বলেন, জমায়েত আরও বড় করতে হবে;
যাতে শাসকের দমনক্ষমতা আরও দুর্বল হয়ে পড়ে।