৫ বছরের মধ্যে ন্যাটো রাষ্ট্রে রুশ হামলার শঙ্কা
ন্যাটোর মহাসচিব মার্কো রুট্টে সতর্ক করেছেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই রাশিয়া ন্যাটোর কোনো সদস্য রাষ্ট্রে হামলা চালাতে পারে। জার্মানিতে আয়োজিত এক সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, রাশিয়া ইতোমধ্যে পশ্চিমের বিরুদ্ধে গোপন অভিযান ও নাশকতামূলক তৎপরতা বাড়িয়েছে। তাই ন্যাটোকে এমন ধরনের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, যার অভিজ্ঞতা পূর্বপ্রজন্ম দেখেছে।
রুট্টে পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বিভিন্ন সময়ের মূল্যায়নের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন, যা মস্কো বরাবরই ‘উদ্বেগ তৈরির অপচেষ্টা’ হিসেবে খারিজ করে আসছে। চলতি মাসের শুরুতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দাবি করেছিলেন, ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধের কোনো পরিকল্পনা রাশিয়ার নেই।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইউরোপ যুদ্ধ শুরু করার চেষ্টা
করলে মস্কো যে কোনো সময় প্রস্তুত। বিশ্লেষকেরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ২০২২ সালে ইউক্রেনে
সামরিক অভিযান শুরুর আগেও রাশিয়ার পক্ষ থেকে এমন আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে ইউক্রেন-রাশিয়া
সংঘাত বন্ধে শান্তি প্রচেষ্টা চলমান। তবে পুতিনের অভিযোগ, শান্তি প্রতিষ্ঠার মার্কিন
প্রচেষ্টায় ইউরোপ ‘বাগড়া’ দিচ্ছে। ট্রাম্পের প্রস্তাবে মস্কোর প্রতি পক্ষপাতের অভিযোগ
তুলে কিয়েভের মিত্ররা খসড়া পরিকল্পনায় কিছু পরিবর্তনের চেষ্টা করছে যা নিয়ে ক্রেমলিন
অসন্তোষ প্রকাশের ইঙ্গিত দিয়েছে।
শান্তি উদ্যোগে পুতিনের আন্তরিকতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে রুট্টে বলেন,
যদি পুতিন তার লক্ষ্য পূরণে সক্ষম হন, তাহলে তার ফল হবে ইউক্রেন দখল, ন্যাটোর সঙ্গে
আরও দীর্ঘ সীমান্তে রুশ সেনার উপস্থিতি এবং ন্যাটো অঞ্চলে সশস্ত্র হামলার ঝুঁকি বহুগুণ
বৃদ্ধি।
রুট্টের বক্তব্যে রাশিয়ার যুদ্ধ-উপযোগী অর্থনৈতিক রূপান্তরের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। তিনি বলেন, গত তিন বছরের বেশি সময় ধরে রাশিয়ার অর্থনীতি যুদ্ধের কাঠামোয় রূপ নিয়েছে, কারখানাগুলো ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদের উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বাড়াচ্ছে।
কিয়েল ইনস্টিটিউট ফর দ্য ওয়ার্ল্ড ইকোনমির এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী,
রাশিয়া মাসে প্রায় ১৫০টি ট্যাংক, ৫৫০টি ইনফ্যান্ট্রি ফাইটিং ভেহিকল, ১২০টি ল্যানসেট
ড্রোন এবং ৫০টির বেশি আর্টিলারি পিস উৎপাদন করছে। যুক্তরাজ্যসহ অধিকাংশ পশ্চিমা দেশ
এই সক্ষমতার কাছাকাছিও পৌঁছাতে পারেনি। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার বর্তমান উৎপাদন সামর্থ্যের
সমপর্যায়ে যেতে পশ্চিম ইউরোপের আরও বহু বছর সময় লাগতে পারে।
ন্যাটোতে ইউরোপের ৩০টি দেশের সঙ্গে রয়েছে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র যাদের মধ্যে সামরিকভাবে সবচেয়ে শক্তিশালী যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের চাপের মুখে সদস্য রাষ্ট্রগুলো প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও, রুট্টে সতর্ক করেন, বর্তমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আপাতত সামাল দিতে পারছে ঠিকই, কিন্তু পাশেই যুদ্ধ চলছে, আর অনেক দেশ এখনো আত্মতুষ্ট।
তিনি বলেন, সময় আমাদের পক্ষে এমন ভাবনা বিপজ্জনক। মিত্রদেশগুলোর প্রতিরক্ষা
ব্যয় ও সামরিক উৎপাদন দ্রুত বাড়াতে হবে, যাতে বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো বাস্তব
সক্ষমতা গড়ে ওঠে।