এবার রাশিয়ার তেলের ট্যাংকার আটক করল যুক্তরাষ্ট্র
ভেনেজুয়েলার তেল রফতানিতে
মার্কিন অবরোধের অংশ হিসেবে আটলান্টিক মহাসাগরজুড়ে দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে তাড়া
করার পর রাশিয়ান পতাকাবাহী তেল ট্যাংকার আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মস্কো জাহাজটিকে
রক্ষা করার জন্য যুদ্ধ জাহাজ ও সাবমেরিন মোতায়েন করার চেষ্টা করেছে এমন খবরের মধ্যেই
এটি আটক করা হলো।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুই
মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত
ডিসেম্বরে ক্যারিবীয় অঞ্চলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ডের
তল্লাশির চেষ্টার পর থেকে আটক এড়িয়ে চলছিল ‘বেলা ১’ নামের পরিচিত ওই ট্যাংকারটি। এর জন্য মাঝ সমুদ্রেই
ট্যাংকারটি তার নাম পরিবর্তন করে ‘ম্যারিনেরা’ রেখেছে এবং নিবন্ধন রাশিয়ায় স্থানান্তর
করেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুধবার আইসল্যান্ডের কাছে মার্কিন কোস্টগার্ড এবং
সামরিক বাহিনী এই আটক অীভযান পরিচালনা করে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর
ইউরোপীয় কমান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি বিবৃতিতে অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত
করে বলেছে, মার্কিন বিচার বিভাগ, স্বরাষ্ট্র সুরক্ষা বিভাগ এবং প্রতিরক্ষা বিভাগ মার্কিন
নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগে ট্যাংকারটি আটক করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে,
‘পশ্চিম গোলার্ধের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ অনুমোদিত জাহাজগুলোকে
লক্ষ্য করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রম্পের ঘোষণাকে সমর্থন করে এই অভিযান চালানো
হয়।’
এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী
পিট হেগসেথ সেই পোস্ট শেয়ার করে লিখেছেন, ‘পৃথিবীর যেকোনো স্থানে অনুমোদিত এবং অবৈধ
ভেনেজুয়েলার তেলের অবরোধ সম্পূর্ণ কার্যকর রয়েছে।’
মার্কিন কর্মকর্তারা রয়টার্সকে
জানিয়েছেন, অভিযানের সময় রাশিয়ান যুদ্ধজাহাজগুলো কাছাকাছি ছিল, যার মধ্যে একটি রাশিয়ান
সাবমেরিনও ছিল। যদিও রুশ জাহাজগুলো অভিযানের কতটা কাছাকাছি ছিল তা স্পষ্ট নয়, তবে
মার্কিন ও রাশিয়ান সামরিক বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের কোনও ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে
কোনও মন্তব্য করেনি মস্কো। তবে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আরটি মার্কিন অভিযানের
ছবি প্রকাশ করেছে। একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, একটি
হেলিকপ্টার ট্যাংকারের দিকে এগিয়ে আসছে এবং মার্কিন বাহিনীর সদস্যরা জাহাজটিতে ওঠার চেষ্টা করছে।
প্রসঙ্গত, বেলা ১ নামে পরিচিত এই ট্যাংকারটি ২০২৪ সালে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এটি ইরান থেকে ভেনেজুয়েলায় যাচ্ছিল। তবে ভেনেজুয়েলার জলসীমার কাছে মার্কিন অবরোধ ও আটক এড়াতে গতিপথ পরিবর্তন করে এবং আটলান্টিক মহাসাগরে ফিরে যায় ট্যাংকারটি।