ফরাসি উপনিবেশকে অবৈধ ঘোষণা করল আলজেরীয় পার্লামেন্ট
ঔপনিবেশিক আমলের অপরাধের জন্য ফ্রান্সের কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা ও ক্ষতিপূরণ
দাবি করেছে আলজেরিয়া।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দেশটির পার্লামেন্টে সর্বসম্মতভাবে অনুমোদিত
একটি আইনে ফরাসি উপনিবেশকে অবৈধ ঘোষণা এবং ঔপনিবেশিক আমলকে কোনও মাহাত্ম্য আরোপকেও
অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়।
এদিন জাতীয় পতাকার রঙের পোশাকে স্কার্ফ পরে পার্লামেন্টে আইন প্রণেতারা
‘আলজেরিয়া দীর্ঘজীবী হোক’ স্লোগান দেন এবং বিলটি পাসের জন্য করতালি দেন। এসময় তারা আলজেরিয়ায় ফ্রান্সের ঔপনিবেশিক অতীত
এবং এর ফলে সৃষ্ট ট্র্যাজেডির জন্য আইনিভাবে ইউরোপের দেশটিকে দোষারোপ করে।
এ আইনের ফলে আলজেরিয়া ও ফ্রান্সের কূটনৈতিক সম্পর্কে চলমান টানাপড়েন আরও স্পষ্ট হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ৬৩ বছর আগে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক এখন সবচেয়ে নাজুক পর্যায়ে রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনও মন্তব্য করেনি ফ্রান্স।
আলজেরিয়া ১৮৩০ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত ফরাসিদের উপনিবেশ ছিল। দেশটির ইতিহাসে ওই সময়ে গণহত্যা ও ব্যাপক নির্বাসন সংগঠিত হয়েছিল। পরে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হয় আলজেরিয়া। দেশটির দাবি, ওই যুদ্ধে ১৫ লাখ মানুষ নিহত হন। তবে ফরাসি ইতিহাসবিদরা নিহতের সংখ্যা আরও কম বলে মনে করেন।
ফ্রান্সের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ অবশ্য আগেই স্বীকার করেছেন
যে, আলজেরিয়ায় ঔপনিবেশিক শাসন ছিল ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের তরফ থেকে তিনি এখনও ক্ষমা
চাননি।
এই আইন এমন এক সময়ে পাস হলো, যখন দাসত্ব ও উপনিবেশবাদের জন্য ক্ষতিপূরণ
এবং পশ্চিমা জাদুঘরে থাকা লুণ্ঠিত নিদর্শন ফেরত দেওয়ার দাবিতে চাপ বাড়ছে। আলজেরীয় আইনপ্রণেতারা দীর্ঘদিন ধরে ষোড়শ শতাব্দীর
ব্রোঞ্জ কামান ‘বাবা মারজুগ’ ফেরতের দাবি জানিয়ে আসছেন, যা ১৮৩০ সালে ফরাসিরা তা নিয়ে
গিয়ে বর্তমানে তাদের ব্রেস্ট বন্দরে রেখেছে।
২০২০ সালে প্যারিস উনিশ শতকে ফরাসি ঔপনিবেশিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে
নিহত ২৪ আলজেরীয় যোদ্ধার দেহাবশেষ ফেরত দেয়। গত মাসে আলজেরিয়া ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে
আফ্রিকান দেশগুলোর একটি সম্মেলনও আয়োজিত হয়েছে।