সৌদিতে শিল্পখাতের বিদেশি কর্মীদের ইকামা ফি বাতিল
নিজেদের শিল্পখাতকে আরো শক্তিশালী করতে সৌদি আরব সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সৌদি আরবের শিল্প খাতে গতি আনতে এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ জোরদার করতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রবাসী শ্রমিকদের ওপর আরোপিত আকামা বা ওয়ার্ক পারমিট ফি মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির মন্ত্রিসভা।
সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে অর্থনৈতিক ও উন্নয়নবিষয়ক পরিষদ (সিইডিএ)-এর সুপারিশে এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয় বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সৌদি গেজেট। আনুমানিক ৭-৮ বছর পর সৌদি আরবে এই আকামা (প্রবাসী কর্মী লেভি) ফি মওকুফ করা হয়।
সৌদি সরকারের এই পদক্ষেপকে দেশটির শিল্পখাত সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০১৭ সালে মোহাম্মদ বিন সালমান ক্রাউন প্রিন্স হওয়ার পর ‘ভিশন ২০৩০’ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করে সৌদি সরকার। এর মূল উদ্দেশ্য তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এনে শিল্প ও অন্যান্য অ-জ্বালানি খাতকে শক্তিশালী করা।
সৌদি গেজেটকে আলখোরায়েফ বলেন, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৪— এই ৫ বছরে সৌদির শিল্পখাতে রীতিমতো উল্লম্ফন ঘটেছে। ২০১৯ সালে যেখানে পুরো সৌদি আরবে সরকারিভাবে অনুমোদিত (লাইসেন্সড) কারখানা ছিল ৮ হাজার ৮৪২টি, সেখানে ২০২৪ সালে কারখানার সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ১২ হাজারেরও বেশি। কারখানার সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে স্বাভাবিকভাবেই কর্মীদের সংখ্যাও বেড়েছে। ২০১৯ সালে সৌদিতে কারখানা শ্রমিকদের সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৮৮ হাজার।
২০২৪ সালে এই সংখ্যা বেড়ে পৌঁছেছে ৮ লাখ ৪৪ হাজার। অর্থাৎ শতকরা হিসেবে দেশটিতে কারখানা শ্রমিকের সংখ্যা বেড়েছে ৭৪ শতাংশ।
কারখানা ও কর্মী বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে শিল্পখাতের আর্থিক ভলিউমও বেড়েছে। ২০১৯ সালে এই ভলিউম ছিল ৯০ হাজার ৮০০ কোটি রিয়াল, বর্তমানে এই ভলিউম ১ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা।
“আমরা দেশের শিল্পখাতের এই অগ্রগতি ধরে রাখতে চাই। এ কারণেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে”, সৌদি গেজেটকে বলেন বন্দর আলখোরায়েফ।