মালয়েশিয়ায় সাঁড়াশি অভিযানে ৭২ বাংলাদেশি আটক
মালয়েশিয়ার জোহর ও নেগেরি সেম্বিলান
রাজ্যে পৃথক সাঁড়াশি অভিযানে ৭২ জন বাংলাদেশিসহ মোট ৪০২ জন অবৈধ প্রবাসীকে আটক
করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। অবৈধ শ্রমিক নিয়োগ ও অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে
পরিচালিত এসব অভিযানে স্থানীয় নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু
হয়েছে।
ইমিগ্রেশন সূত্রের তথ্যমতে , বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় জোহর বাহরুর তেব্রাউ শিল্প এলাকায় একটি কম্পিউটার যন্ত্রাংশ কারখানায়
অভিযান চালিয়ে ৩৫৬ জন অবৈধ প্রবাসীকে আটক করা হয়। সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষা
সংস্থা (একেপিএস) এর সহযোগিতায় জোহর ইমিগ্রেশন বিভাগের এনফোর্সমেন্ট শাখা এই
অভিযান পরিচালনা করে।
জোহর ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক দাতুক
মোহদ রুসদি মোহদ দারুস জানান, অভিযানে দেখা যায় কারখানাটিতে বিপুলসংখ্যক বিদেশি
বৈধ পাস ও কাজের অনুমতি ছাড়াই কর্মরত ছিলেন। অভিযান চলাকালে কয়েকজন পালানোর চেষ্টা
করলেও দ্রুত সব বহির্গমন পথ বন্ধ করে দেওয়ায় তারা আটক হন। এ ঘটনায় তদন্তে সহায়তার
জন্য কারখানার মানবসম্পদ বিভাগের দুইজন স্থানীয় কর্মীকেও আটক করা হয়েছে।
যাচাই-বাছাইয়ে জানা যায়, আটক
ব্যক্তিদের মধ্যে ২৯৯ জন মিয়ানমারের নাগরিক, ২৬ জন বাংলাদেশি, ২২ জন ভারতীয়, তিনজন
ইন্দোনেশীয়, দুইজন নেপালি এবং একজন করে পাকিস্তান ও ফিলিপাইনের নাগরিক রয়েছেন। তাদের বয়স ১৮ থেকে ৪৬ বছরের মধ্যে। সবাইকে ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩ ও ইমিগ্রেশন
বিধিমালা ১৯৬৩ অনুযায়ী সেতিয়া ট্রপিকা ইমিগ্রেশন ডিপোতে রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে নেগেরি সেম্বিলান রাজ্যের
নিলাই এলাকায় একটি লৌহ কারখানায় বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সকাল থেকে পরিচালিত অভিযানে আরও ৪৬ জন
বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়। রাজ্য ইমিগ্রেশন পরিচালক কেনিথ তান আই কিয়াং
জানান, বৈধ ভ্রমণ নথি না থাকা ও নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থানের অভিযোগে তাদের আটক
করা হয়েছে। অভিযানে বিভিন্ন সংস্থার মোট ৫৬ জন কর্মকর্তা অংশ নেন।
ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, অবৈধ
শ্রমিক নিয়োগকারী মালিকপক্ষের বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট আইনের
৫৫ই(১) ধারায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।