ডয়চে ভেলেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে রাশিয়া
রাশিয়া জার্মানির আন্তর্জাতিক সম্প্রচারমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে একটি ‘অবাঞ্ছিত সংস্থা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর ফলে দেশটিতে তাদের কার্যক্রম কার্যত নিষিদ্ধ করা হলো। রাশিয়ার পার্লামেন্টের অভ্যন্তরীণ বিষয়ক বৈদেশিক হস্তক্ষেপ তদন্ত কমিশনের প্রধান ভ্যাসিলি পিস্কারেভ ডয়চে ভেলেকে ‘শত্রুতামূলক রুশ-বিরোধী প্রচারণার প্রধান ক্ষেত্র’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
পরে মঙ্গলবার
(১৬ ডিসেম্বর) বিচার মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত নথিতে ওই গণমাধ্যমের নাম অন্তর্ভুক্ত
করা হয়।
তিনি আরও বলেন, এই ‘অবাঞ্ছিত’ তকমা দেওয়ার অর্থ হলো এখন থেকে ডয়চে ভেলেকে যেকোনো ধরনের সহযোগিতা করা হলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাশিয়া যেসব সংস্থাকে তাদের সাংবিধানিক শৃঙ্খলা বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে মনে করে, সেগুলোকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা দিয়েছে। এই ধরনের কার্যক্রমে অর্থায়নের জন্য আইনে পাঁচ বছর পর্যন্ত এবং তা সংগঠিত করার জন্য ছয় বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান আছে।
জার্মান সরকার এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছে। ডয়চে ভেলে সরকারি মুখপাত্র স্টেফান কর্নেলিয়াসের বক্তব্য উল্লেখ করে বলেছে যে, এটি প্রমাণ করে ‘রুশ নেতৃত্ব স্বাধীন তথ্যকে, বিশেষ করে ইউক্রেনের ওপর চালানো আগ্রাসনের যুদ্ধ সম্পর্কিত তথ্যকে ভয় পায়।
সম্প্রচারমাধ্যমটি জানিয়েছে যে, রাশিয়ার দর্শকরা বিকল্প ব্রাউজার বা ভিপিএন-এর মাধ্যমে এখনও তাদের ওয়েবসাইটে ঢুকতে ও পড়তে পারবেন। তারা জানায়, চলতি বছরে ডয়চে ভেলের রুশ ভাষার কন্টেন্ট প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১ কোটি দর্শক দেখেছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই ছিল ভিডিও কন্টেন্ট।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আক্রমণ শুরুর পর থেকে রাশিয়ার বিচার মন্ত্রণালয় ক্রেমলিন বা যুদ্ধে রাশিয়ার আচরণের সমালোচনাকারী বহু গোষ্ঠীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
গত শুক্রবার জার্মানি রাশিয়ার বিরুদ্ধে তাদের বিমান ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় সাইবার হামলা এবং আগামী ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনের আগে ভুল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ তুললে মঙ্গলবার এই ঘোষণাটি আসে। রাশিয়া অবশ্য এই দাবিগুলিকে ‘অবান্তর’ ও ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
সোমবার
জার্মানির নিম্ন কক্ষ বুন্ডেস্ট্যাগও একটি বড় ইমেইল বিভ্রাটের শিকার হয়। এর জন্য
জার্মান কর্মকর্তারা একটি রুশ সাইবার হামলাকে দায়ী করেছেন।