ক্ষতির দায় নেই, তবু ৭৮ বিলিয়ন ডলারের জলবায়ু ঋণের ফাঁদে বাংলাদেশ!
ব্রাজিলের বেলেম শহরে জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন কপ৩০-এর সপ্তম দিন ছিল গতকাল রোববার। ব্যস্ততম এ দিনে ভিড়ের মধ্যে একটি মঞ্চে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশি এক তরুণী হঠাৎ গান ধরলেন– ‘নদীর কূলের লাগি আমি কাঁন্দি, আমার লাগি কেউ কাঁন্দে না। বন্ধু রে, হায়, আমার লাগি কেও কাঁন্দে না।’
মর্মস্পর্শী গানটি বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অনেক জলবায়ুকর্মী ভিডিও করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন। এ যেন উপকূলের ক্ষয়ে যাওয়া গ্রাম, বন্যায় ভেসে যাওয়া ঘর, নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারানো মানুষ, নোনাজলে কৃষিজমি পুড়ে যাওয়া কৃষকের আর্তনাদ। বাংলাদেশ আজ জলবায়ু পরিবর্তনের যে থাবার মধ্যে আটকা, সেই কান্নাই যেন সুর হয়ে তরুণীর কণ্ঠ থেকে বের হয়ে এলো।
জলবায়ু সংকটের জন্য দায়ী যে বাংলাদেশ নয়– সেটা আন্তর্জাতিক মহল জানে। অথচ ক্ষতির হিসাব জমা দিতে গেলে বাংলাদেশের প্রতি অন্যায়ের বিস্তৃতি চোখে পড়ে আরও স্পষ্টভাবে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, নিঃসরণে সবচেয়ে কম অবদান রাখা বাংলাদেশের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণের অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার। কিন্তু বাস্তবতা কঠিন। এ বিশাল অঙ্কের কোনো অংশই এখনও বাংলাদেশের হাতে পৌঁছায়নি। বরং উন্নয়নের নামে বহুপক্ষীয় ঋণের বোঝা ক্রমেই বাড়ছে। সর্বশেষ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের জলবায়ু-সম্পর্কিত ঋণের পরিমাণ ৭৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। জলবায়ুর ক্ষতির দায় অন্যের হলেও বোঝা বইতে হচ্ছে বাংলাদেশকেই।
কপ৩০ শুরু হয়েছিল অনেক প্রত্যাশা নিয়ে। বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো আশা করেছিল, এ সম্মেলন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের বাস্তব কষ্টের দিকে নতুন করে মনোযোগ ফেরাবে। কিন্তু আমাজন জঙ্গলের তীরে বসা এক সপ্তাহ ধরে চলা আলোচনায় সেই প্রত্যাশা পূরণের কোনো ইঙ্গিত নেই। আলোচনায় অনুদানভিত্তিক ক্ষতিপূরণের বিষয় গুরুত্বই পাচ্ছে না। বরং ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে নতুন ঋণনির্ভর স্কিমে ঢোকানোর জন্য জোরালো চেষ্টা চলছে। বাংলাদেশি তরুণীর গানের প্রতিটি লাইন যেন বলছিল– বাংলাদেশ বাঁচার জন্য কাঁদছে; কিন্তু বৈশ্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা এখনও সেই কান্নাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না।
বাংলাদেশসহ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো গভীর ফাঁদে: সিডিআরআই
জলবায়ু ঋণ দ্রুত বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো গভীর ফাঁদে পড়ছে বলে সতর্ক করেছে ক্লাইমেট ডেট রিস্ক ইনডেক্স-২০২৫ (সিডিআরআই)। গতকাল রোববার বেলেমে প্রকাশিত সিডিআরআই সতর্ক সুরে জানাচ্ছে, দ্রুত বাড়তে থাকা জলবায়ু ঋণ বাংলাদেশসহ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অর্থনীতি ও সমাজকে গভীর সংকটে ঠেলে দিচ্ছে। ঢাকাভিত্তিক চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ ও ইয়ুথ পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশনের (ওয়াইপিএসএ) যৌথ উদ্যোগে তৈরি প্রতিবেদনে ৫৫টি দেশকে নিয়ে করা বিশ্লেষণে বলা হয়, বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিপদগ্রস্ত দেশগুলোকে ঋণ নিতে বাধ্য করা হচ্ছে।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ ৫৫ দেশের মধ্যে ১৩টি ‘অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিতে’, ৩৪টি ‘উচ্চ ঝুঁকিতে’ এবং মাত্র দুটি দেশ ‘নিম্ন ঝুঁকিতে’ আছে। দক্ষিণ এশিয়া, সাহেল, পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলীয় অঞ্চল ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপগুলোতে ঝুঁকি সবচেয়ে দ্রুত বেড়েছে। এসব অঞ্চলে জলবায়ু-ঝুঁকির সঙ্গে ঋণনির্ভর অর্থায়ন মিলিত হয়ে কাঠামোগত সংকট তৈরি করছে, যা ভয়াবহ চিত্র বহন করে।
এ ৫৫ দেশে ২০২৩ সালে ঋণ পরিশোধে ব্যয় হয়েছে ৪৭ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার। অথচ জলবায়ু অর্থায়ন এসেছে মাত্র ৩৩ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার। মাথাপিছু জলবায়ু ঋণের বোঝা ২৩ দশমিক ১২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় এর পরিমাণ আরও বেশি– ২৯ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার। এ ঋণের বৃত্তে আটকে থাকা দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ।
সিডিআরআই সূচকের ছয়টি মানদণ্ড জলবায়ু ঝুঁকি, ক্রেডিট রেটিং, আয়, ঋণ স্থায়িত্ব, অর্থায়নের গঠন ও প্রাকৃতিক সম্পদ শাসনের ভিত্তিতে তৈরি স্কোরে বাংলাদেশকে এমন দেশগুলোর মধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলো চলতি দশকের মধ্যেই ‘অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকি’ গ্রুপে নেমে যেতে পারে; যদি বৈশ্বিক অর্থায়নে অনুদান বৃদ্ধি, দ্রুত অর্থ ছাড়, ঋণমুক্তি ও স্বচ্ছ সংস্কার না আসে।
বাংলাদেশের জলবায়ু অর্থায়নের গঠন কতটা অসম, সেটিও উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। বর্তমানে দেশের ঋণ-টু-গ্রান্ট অনুপাত ২ দশমিক ৭০, অর্থাৎ অনুদানের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি ঋণ। প্রতিবেশী নেপালে এ অনুপাত মাত্র শূন্য দশমিক ১০। এ উচ্চ ঋণনির্ভরতা বাংলাদেশের অভিযোজন সক্ষমতা দুর্বল করছে; বিশেষত উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন, পানির লবণাক্ততা ও তাপপ্রবাহ ভয়াবহ আকার নিচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জলবায়ু অর্থায়ন বলে যে বিশাল অঙ্ক দেখানো হয়, তার একটি উল্লেখযোগ্য অংশের সঙ্গে আসলে জলবায়ুর কোনো সম্পর্ক নেই। বিভিন্ন দেশ বছরের পর বছর ভুল চিহ্নিত প্রকল্পকে জলবায়ু অর্থায়ন হিসেবে দেখিয়েছে। উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ায় জাপানের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, হাইতিতে মার্কিন সহায়তায় নির্মিত ম্যারিয়ট হোটেল, এশিয়ার নানা দেশে ইতালির চকলেট দোকান, মরক্কোর কয়লা বন্দরকে ‘জলবায়ু প্রকল্প’ হিসেবে দেখানো, ফরাসি উন্নয়ন সংস্থার বাতিল প্রকল্পেও ঋণ দেখানো এবং বিশ্বব্যাংকের ৪১ বিলিয়ন ডলারের অচিহ্নিত ব্যয়। এসব প্রকল্পের অন্তর্ভুক্তি জলবায়ু অর্থায়নের পরিসংখ্যান ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে উন্নত দেশগুলোর দায়বদ্ধতা আড়াল করছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজও বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়নের ৩২ শতাংশ বড় আকারের জ্বালানিভিত্তিক প্রকল্পে ঢুকছে, যার বেশির ভাগই ঋণ। অথচ স্বাস্থ্য খাতে অর্থ বরাদ্দ ১ শতাংশের কম। দুর্যোগ প্রতিরোধে বরাদ্দও ১ শতাংশের আশপাশে। জনসংখ্যা ও সমাজভিত্তিক সহায়তার ক্ষেত্রেও চিত্র একই। বাংলাদেশে যেখানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, উপকূল প্রতিরক্ষা, জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ও অবকাঠামো নির্মাণ এখন জরুরি, সেখানে এসব খাতই সবচেয়ে অবহেলিত।
বিশ্বের সবচেয়ে কম নিঃসরণকারী দেশগুলোর মধ্যে থাকা বাংলাদেশ, নাইজার ও রুয়ান্ডার প্রতি টন কার্বন নিঃসরণে জলবায়ু ঋণের বোঝা সবচেয়ে বড়– এটিও প্রতিবেদনের অন্যতম পর্যবেক্ষণ। এ অবস্থায় সিডিআরআই বলছে, যে সংকট তারা তৈরি করেনি, সেই সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশসহ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে ঋণ নিতে হচ্ছে। এ বাস্তবতা শুধু উন্নয়ন ধীর করছে না, বরং বাস্তুচ্যুতি, দারিদ্র্য বিস্তার ও জীবিকা সংকটও বাড়িয়ে তুলছে।
প্রতিবেদনটি উন্নত দেশগুলোর জন্য স্পষ্ট সুপারিশ দিয়েছে– ক্ষয়ক্ষতির (লস অ্যান্ড ড্যামেজ) অর্থায়নে অনুদানকেই প্রধান মাধ্যম করা, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর সর্বাত্মক ঋণমুক্তি এবং সামনের সারির ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য বৈশ্বিক ‘আর্থ সলিডারিটি ফান্ড’ গঠন। সেই সঙ্গে বহুপক্ষীয় উন্নয়ন ব্যাংকগুলোকে ঋণনির্ভরতা কমিয়ে অধিকারভিত্তিক, অনুদানকেন্দ্রিক অর্থায়নে যাওয়ার আহ্বান করেছে। বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য সুপারিশ রয়েছে– দূষণ কর, কার্বন প্রাইসিং, দাতব্য অংশীদারিত্ব এবং কমিউনিটি-নেতৃত্বাধীন ‘ন্যাচারাল রাইটস ফান্ড’ চালুর মতো উদ্যোগ গ্রহণ।
কপ৩০-এর আলোচনায় যেখানে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের অস্তিত্ব টিকে থাকার কথা অধিকতর উচ্চারিত হওয়ার কথা ছিল, সেখানে এখনও অনিচ্ছা, জটিলতা আর রাজনৈতিক দ্বিধাদ্বন্দ্বই প্রাধান্য পাচ্ছে। বৈশ্বিক অগ্রাধিকার নির্ধারণে ধীরগতি অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশসহ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য সামনে আরও কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। জলবায়ু ঋণ বাড়ছে, ক্ষতিপূরণ মিলছে না। আর প্রকৃতির আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত লাখো মানুষের সুরক্ষা আজ থেমে আছে বৈশ্বিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।
চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের প্রধান নির্বাহী ও প্রধান গবেষক এম জাকির হোসেন খান বলেন, জলবায়ুর কষ্টে মানুষ নয়, ব্যাংকই লাভবান হচ্ছে। যেখানে প্রচুর অর্থ সহায়তা প্রয়োজন, সেখানে জলবায়ুর টাকা আসে অনেক দেরিতে। আর যা আসে তা ঋণ হিসেবে। এতে আর্থিক সক্ষমতা দুর্বল হচ্ছে এবং মানুষ ও প্রকৃতির সুরক্ষায় দেরি হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়নের ঘাটতি আসলে রাজনৈতিক অনিচ্ছার ফল। বৈশ্বিক কার্বন কর ও অস্ত্র কর বছরে ছয় ট্রিলিয়ন ডলার তুলতে পারে। এর এক-তৃতীয়াংশও যদি ঝুঁকিপূর্ণ দেশ, ক্ষয়িষ্ণু বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দেওয়া হয়, তবে সেটি দয়া নয়, জলবায়ু ও পরিবেশগত ঋণ পরিশোধ।
পাওনার ৫.৮ ট্রিলিয়ন ডলার পাচ্ছে না বাংলাদেশ
জলবায়ু ও পরিবেশ দূষণের জন্য দায়ী দেশগুলোর কাছে বাংলাদেশের পাওনা ৫ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ সেই অর্থ পাচ্ছে না। উল্টো উন্নয়নের নামে দেওয়া ৭৮ বিলিয়ন ডলারের ফাঁদে বাংলাদেশ জর্জরিত। কিন্তু বেলেমে আয়োজিত সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য নেই আশার বাণী। বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর পক্ষ থেকে জাতীয় পরিকল্পনার পাশাপাশি যৌক্তিক ক্ষতিপূরণের দাবি তুলে ধরা হচ্ছে।
প্যারিস চুক্তিতে জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার ১০ বছর কেটে গেছে। এখন বিশ্বনেতারা ব্রাজিলের বেলেম শহরে কপ৩০ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন। কিন্তু আলোচনার এ সময়ে স্পষ্ট হচ্ছে–পৃথিবীতে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কম দায়ী দেশগুলোর একটি বাংলাদেশই আজ সবচেয়ে গভীর জলবায়ু-ঋণের ফাঁদে পড়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ থেকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, পররাষ্ট্র, অর্থ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় এবং প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক এ সম্মেলনে যোগ দিয়ে জলবায়ুর প্রভাবে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর আর্থিক সুরক্ষা নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ বলেন, বিশ্বের যেসব উন্নত দেশ রয়েছে, তাদের কাছে আমাদের দাবি– জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে আমরা ঋণের বদলে অনুদান চাই। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। আমাদের অ্যাডাপটেশন সাইডেও ফান্ডিংয়ের জন্য ক্লেইম করা উচিত।’
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার গতকাল রোববার কপ৩০-এর ব্লু জোনে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ধনী দেশগুলো বারবার প্যারিস জলবায়ু চুক্তির অঙ্গীকার পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে। জলবায়ু অর্থায়ন আমরা দয়া বা ঋণ হিসেবে চাই না, এটি আমাদের অধিকার। তাই এটি অনুদান আকারে দিতে হবে– এ দাবি আমরা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই। উপদেষ্টা বলেন, যারা জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী এবং যারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত– তাদের মধ্যে যেন এক অসম যুদ্ধ চলছে। আমরা বাংলাদেশ থেকে বা দুর্বল রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিত্ব করে যখন এখানে আসি, তখন তা আরও স্পষ্টভাবে অনুভব করি।
সরকারের পাশাপাশি সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, উন্নত দেশগুলো ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করায় এবারের সম্মেলন থেকে ইতিবাচক ফল আসার সম্ভাবনা নেই।
জলবায়ু ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞ শাকিরুল ইসলাম বলেন, ক্ষতিপূরণের জন্য সবাই মিলে তহবিল গঠন করা এবং তার মাধ্যমে বিশ্বকে গড়ে তোলা, সেসব জায়গায় আসলে কেউ প্রতিশ্রুতি সেভাবে রাখছে না। এ কারণে যে ফলাফলের কথা বলি, সেগুলো আমরা দেখতে পাই না।