রাণীশংকৈলে কৃষিকর্মকর্তার ওপর হামলা
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় সার বিতরণকে কেন্দ্র করে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আকতার হোসেনের ওপর হামলার ঘটনায় রাণীশংকৈল থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) উপজেলার উমরাডাঙ্গী বাজারে মল্লিক ট্রেডার্সের প্রতিনিধি মোজাম্মেল হোসেন কৃষকদের মাঝে সার বিতরণ করছিলেন। এ সময় তিনটি ভ্যানে করে পাঁচ কৃষকের কাছে ৩৩ বস্তা সার সরবরাহ হতে দেখেন অন্য কৃষকেরা। বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে আকতার হোসেন দুপুরের খাবারের কথা বলে ঘটনাস্থল থেকে সরে যান বলে স্থানীয়রা জানান।
পরে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা মামুনুর রশিদ মামুন ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তার ডাকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সহিদুল ইসলামসহ আকতার হোসেন ও অন্য কর্মকর্তারাও সেখানে যান। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় ক্ষুব্ধ জনতা আকতার হোসেনকে লক্ষ্য করে সন্ত্রাসী কায়দায় এলোপাতাড়ি মারধর করে। কিল-ঘুষি ও লাথির পাশাপাশি ইটের আঘাতে তার মাথায় গুরুতর জখম হয় এবং মুখে আঘাত লেগে একটি দাঁত ভেঙে যায়।
আহত আকতার হোসেনকে তাৎক্ষণিকভাবে রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সর্বশেষ পাওয়া তথ্যে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের কর্মকর্তার অবস্থা গুরুতর। এ ঘটনার পর মামলা হয়েছে এবং জেলা কৃষি অফিস তদন্ত কমিটি করেছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক শষ্য আলমগীর কবির জানান, তাকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হাসান এবং রাণীশংকৈল অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা সাবের আলম। তিনি জানান, দুই কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
রাণীশংকৈল থানার ওসি (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম বলেন, আকতার হোসেন বাদী হয়ে আটজনকে নামীয় ও ১০–১২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেছেন। তদন্তের ভিত্তিতে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে।