সুন্দরবনে জিম্মি থাকা পর্যটক উদ্ধার, ৩ ডাকাতসহ আটক ৬
সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের সমন্বয়ে নৌবাহিনী, পুলিশ ও র্যাবের যৌথ অভিযানে ডাকাত দলের হাতে জিম্মি থাকা পর্যটক ও রিসোর্ট মালিক উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকাল ৩ টায় সুন্দরবনের গোলকানন রিসোর্ট হতে কানুরখাল সংলগ্ন এলাকায় কাঠের বোটে করে ভ্রমণকালে ৫ জন পর্যটক, ১ জন মাঝি এবং রিসোর্ট মালিকসহ ৭জন ব্যক্তিকে মাসুম মৃধার নেতৃত্বাধীন একটি ডাকাত দল জিম্মি করে।
ডাকাত দল ৩ জন পর্যটক ও মাঝিকে মুক্তি দিলেও ২ জন পর্যটক এবং গোলকানন রিসোর্টের মালিককে জিম্মি অবস্থায় সুন্দরবনের অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় এবং মুক্তিপণ দাবি করে। পরবর্তীতে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি কোস্ট গার্ডকে অবহিত করে।
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, পুলিশ ও র্যাবের সমন্বয়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। অভিযান চলাকালীন শনিবার (৩ জানুয়ারি) ডাকাত মাসুমের সহযোগী কুদ্দুস হাওলাদার, মোঃ সালাম বক্স এবং মেহেদী হাসানকে সুন্দরবনের গোলকানন রিসোর্ট সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকা হতে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে রবিবার (৪ জানুয়ারি) সুন্দরবনের কৈলাশগঞ্জ এলাকা হতে ডাকাত সহযোগী আলম মাতব্বরকে আটক করা হয়। একই দিনে খুলনার রূপসা থানাধীন পালেরহাট এলাকা হতে গোয়েন্দরা বিকাশের মাধ্যমে মুক্তিপণের টাকা উত্তোলনকালে ডাকাত মাসুমের মা জয়নবী বিবি ও বিকাশ ব্যবসায়ী অয়ন কুন্ডুকে নগদ ৮১ হাজার ৪০০ টাকাসহ আটক করা হয়।
এরপর রবিবার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭ টায় সুন্দরবনের গাজী ফিশারিজ সংলগ্ন এলাকা হতে ড্রোন সার্ভিলেন্স এর মাধ্যমে জিম্মিকৃত ২জন পর্যটক ও গোলকানন রিসোর্টের মালিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে প্রধান ডাকাত মাসুম মৃধাকে আটকের জন্য কোস্ট গার্ডের গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান চলমান রয়েছে।
কোস্টগার্ড কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল- হক আরও বলেন, উদ্ধারকৃত পর্যটকদের পরিবারের নিকট হস্তান্তর এবং আটককৃত ডাকাত সহযোগীদের থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলে পর্যটকসহ সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।