ঝুঁকিতে ষাট গম্বুজ মসজিদের ১০ মিহরাব, সংরক্ষণে প্রয়োজন আন্তর্জাতিক সহায়তা
পঞ্চদশ শতকের সুলতানি আমলের স্থাপত্য বিশ্ব ঐতিহ্য ষাট গম্বুজ মসজিদ অস্তিত্ব সংকটে। লবণাক্ততা, আর্দ্রতা ও বায়ুদূষণের প্রভাবে মসজিদের ১০টি মিহরাব ঝুঁকিতে রয়েছে।
দক্ষিণ পাশে ৫টি, উত্তরে ৪টি এবং মাঝের প্রধান মিহরাব দ্রুত ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, দ্রুত সংরক্ষণ না হলে এসব মিহরাব যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে। এতে পুরো স্থাপনার মূল কাঠামো হুমকির মুখে পড়বে।
চুনসুরকি, পোড়ামাটির ইট ও বেলে পাথরের সমন্বয়ে নির্মিত এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটির নিচের অংশে নোনা পানি শুকিয়ে লবণের স্ফটিক জমে দুর্বল করে দিচ্ছে ইট-পাথরের বন্ধন।
সরেজমিনে দেখা যায়, নোনা ধরা দেয়ালে ফাটল ধরেছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানের পলেস্তারা খসে পড়েছে। মিহরাবের নকশাগুলো বিবর্ণ হয়ে গেছে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটি ও আইকমসের যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, বর্ষায় অতিরিক্ত আর্দ্রতা, তাপমাত্রার ওঠানামা, শিল্পায়নের কারণে বায়ুদূষণ এবং লবণাক্ততা বেড়ে গেছে। গত কয়েক বছরে মসজিদের ক্ষয়ের গতি বহুগুণ বেড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে। এরই মধ্যে মসজিদ পরিদর্শন শেষে সুপারিশ জমা দিয়েছে কমিটি।
কমিটির প্রধান ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ড. মো. শফিকুল আলম জানান, সিডর ও আইলার জলোচ্ছ্বাস থেকে আসা লবণাক্ত পানির কারণে মিহরাবগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নরম ও ছিদ্রযুক্ত বেলে পাথর লবণের প্রভাবে দ্রুত ভেঙে যাচ্ছে। দুই পাশের স্তম্ভে শূন্যতা তৈরি হয়েছে এবং পাথর ধরে রাখা লোহার ক্ল্যাম্পে জং ধরেছে। ফলে যেকোনো সময় মিহরাবগুলো ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যদি দ্রুত সংস্কার করা না হয়, তবে ইউনেস্কো ষাট গম্বুজ মসজিদ ‘বিপজ্জনক বিশ্ব ঐতিহ্য’তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। যা জাতীয় মর্যাদার জন্য বড় আঘাত হবে।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের খুলনা ও বরিশালের আঞ্চলিক পরিচালক লাভলী ইয়াসমিন জানান, মসজিদের প্রতিটি দেয়াল, গম্বুজ, স্তম্ভ ও মিহরাবের ক্ষয়ের চিত্র দ্রুত প্রস্তুত করা হবে। এরপর ইউনেস্কোর সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ পরিকল্পনা নেওয়া হবে।
দেশে পাথর সংরক্ষণে দক্ষ জনবল নেই স্বীকার করে তিনি বলেন, তাই আন্তর্জাতিক সহায়তা এখন অত্যন্ত জরুরি।
ইউনেস্কোর ঢাকা অফিসও তাৎক্ষণিক সাময়িক সংরক্ষণ কাজ শুরুর সুপারিশ করেছে। প্রয়োজনে বুয়েটের অভিজ্ঞ অবকাঠামোবিষয়ক প্রকৌশলীদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।