৯ ডিগ্রিতে নামল লালমনিরহাটের তাপমাত্রা
উত্তরের হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশার প্রভাবে লালমনিরহাটে তীব্র শীত জেঁকে বসেছে। টানা কয়েকদিন সূর্যের দেখা না মেলায় জেলার স্বাভাবিক জনজীবন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ, শিশু ও বয়স্করা।
রাজারহাট আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় লালমনিরহাটে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল প্রায় ৯৯ শতাংশ। তাপমাত্রা ক্রমশ কমতে থাকায় জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
হিমালয়ের কাছাকাছি হওয়ায় শীত মৌসুমে লালমনিরহাটে তুলনামূলকভাবে বেশি ঠান্ডা অনুভূত হয়। ভোর ও রাতের বেলায় শিশির পড়ছে বৃষ্টির মতো। কোথাও কোথাও টিনের চালের ওপর শিশির ঝরার শব্দ শোনা যাচ্ছে। সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও অনেক সময় সূর্যের দেখা মিলছে না।
ঘন কুয়াশার কারণে রাত ও ভোরে যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি বেড়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে অনেক যানবাহন অতিরিক্ত ও রঙিন লাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে। পাশাপাশি শীতের প্রভাবে শীতজনিত রোগের প্রকোপও বাড়ছে। বিশেষ করে শিশুদের সর্দি-কাশি, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া এবং বয়স্ক ও অ্যাজমা রোগীদের শ্বাসকষ্টের সমস্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলার চারটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সদর হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৩৫ থেকে ৪০ জন শীতজনিত রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।
পাটগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা মেসলেমা আক্তার বলেন, তার দুই বছরের সন্তান কয়েকদিন ধরে সর্দি-কাশিতে ভুগছে। নিউমোনিয়া এড়াতে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে।
কালীগঞ্জের কাকিনা এলাকার কৃষক এনামুল হক জানান, টানা দুই দিন রোদ না থাকায় ক্ষেতে কাজ করতে অসুবিধা হচ্ছে। অতিরিক্ত শীতে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কাও করছেন তিনি।
গোকুন্ডা এলাকার কৃষক বজলার রহমান বলেন, এক সপ্তাহ তীব্র শীতের পর আবহাওয়া কিছুটা স্বাভাবিক হলেও রবিবার সকাল থেকে আবার ঠান্ডা বেড়েছে। ঠান্ডার কারণে মাঠে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
রিকশাচালক ফরিদুল ইসলাম জানান, ঠান্ডার কারণে মানুষ ঘর থেকে কম বের হওয়ায় যাত্রী কমে গেছে। এতে দৈনন্দিন আয়ও কমেছে।
রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় এবং উত্তর দিক থেকে আসা হিমেল বাতাসের প্রভাবে লালমনিরহাট ও আশপাশের জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। চলতি মাসে আরও এক থেকে দুটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে বলেও তিনি জানান।