ফসলি জমি দখল করে মাছের ঘের করায় দিশেহারা কৃষকরা
শরীয়তপুরের ডামুড্যায় প্রভাবশালী একটি চক্রের বিরুদ্ধে অন্তত ১০০ কৃষকের তিন ফসলি জমি দখল করে মাছের ঘের তৈরির অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যে এক্সকাভেটর (ভেকু) দিয়ে জমির উপরের উর্বর মাটি কেটে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এতে বাধা দিতে গেলে কৃষকদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। ফলে ফসল হারানোর ভয়ে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডামুড্যা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কয়েকশো একর জমিতে কৃষকরা প্রধানত ধান ও মরিচ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, এই অঞ্চলে প্রতি বছর প্রায় দশ হাজার মণ মরিচ এবং পাঁচ হাজার মণ আউশ ধান হয়।
সম্প্রতি রিপন উঝা ও লাজুক নামের দুই প্রভাবশালী ব্যক্তি এই উর্বর জমিতে মাছের ঘের করার উদ্যোগ নেন। ইতিমধ্যে দারুলআমান ইউনিয়নের কাইলারা গ্রাম এবং কনেশ্বর ইউনিয়নের ছৈয়াদ বোস্তা এলাকায় পাঁচটি ভেকু দিয়ে রাত-দিন সমানতালে মাটি কাটা হচ্ছে। কাজটির প্রায় ৩০ শতাংশ শেষ হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। দ্রুত এটি বন্ধ করা না গেলে এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে এবং কয়েক হাজার মানুষের কৃষিকাজ বন্ধ হয়ে যাবে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আলিম উদ্দিন বেপারী বলেন, রিপন উঝা জোর করে আমার জমির মাটি কেটে ফেলছে। আমি বাধা দেওয়ায় আমাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এই জমিটুকু হারালে আমি সন্তানদের নিয়ে না খেয়ে থাকব। আমি চাষাবাদ করে বাঁচার অধিকার চাই।
অপর কৃষক আমির হোসেন বলেন, আমার ২০ শতাংশ জমিতে মরিচ ও শাকসবজি চাষ করে সংসার চালাই। লাজুক সেই জমি দখল করে ঘের কাটছে। আমরা এখন কীভাবে বাঁচব? সরকারের কাছে আবেদন, আমাদের জমি রক্ষা করুন।
অভিযোগের বিষয়ে ঘের ও ভেকুর মালিক লাজুক দাবি করেন, কাউকে জোর করা হয়নি। যাদের যেভাবে প্রয়োজন ম্যানেজ করেই জমি লিজ নেওয়া হয়েছে। কৃষকরা নিজ ইচ্ছায় লিজ দিয়েছেন। প্রশাসনের অনুমতি আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রশাসনের বিষয়টি রিপন ভাই দেখছেন।
এ বিষয়ে ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালাহউদ্দিন আইয়ূবী বলেন, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী কৃষি জমির উপরের মাটি কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ। এতে জমির উর্বরতা নষ্ট হয় এবং ফলন মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়। এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।