পবিপ্রবিতে নিয়োগ ও প্রমোশন স্থগিত, বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের বিজয় দিবস বর্জন
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি সংক্রান্ত সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যপক্ষের মধ্যে প্রকাশ্য বিভাজন দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) বিজয় দিবস উদযাপনের সময় সেই দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত রিজেন্ট বোর্ডের ৫৭তম সভায় কয়েকটি সিদ্ধান্ত—বিশেষ করে এক শিক্ষক নেতার পদোন্নতি ও একটি নিয়োগ প্রস্তাব অনুমোদন না পাওয়াকে ঘিরে বিরোধ শুরু হয়। বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের একটি অংশ এসব সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে উপাচার্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।
রিজেন্ট বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ইউট্যাবের সাংগঠনিক সম্পাদক এবিএম সাইফুল ইসলামের অধ্যাপক পদে পদোন্নতি বিধিমালার শর্ত পূরণ না হওয়ায় স্থগিত করা হয়। একই সভায় আইন ও ভূমি প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক জামাল হোসেনের স্ত্রী জিনাত নাসরিন সুলতানার নিয়োগ প্রস্তাবও অনুমোদন পায়নি। বিজ্ঞপ্তিভুক্ত পদ-সংক্রান্ত অসঙ্গতি ও প্রক্রিয়াগত অনিয়মের অভিযোগে বোর্ড পুনরায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিয়োগের মত দেয়।
বিজয় দিবসের আগের দিনগুলোতে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক এস এম হেমায়েত জাহানের নেতৃত্বাধীন একটি অংশ উপাচার্যের সঙ্গে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নিয়ে আপত্তি তোলে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তারা কয়েকটি শর্তের কথা জানালেও উপ-উপাচার্য পরে তা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “ভিসি স্যারের কাছে আমাদের দাবি ছিল—জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সঙ্গে একসঙ্গে শহীদ মিনারে যাব না। ভিসি স্যার আমাদের কথা শোনেননি, তাই আমরা কর্মসূচিতে যাইনি।”
তবে উপ-উপাচার্যের অনুগত শিক্ষক ও ডিন অধ্যাপক জামাল হোসেন শাস্তি মওকুফের দাবির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “এই বিষয়গুলো তো আছেই।”
এদিকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম দাবি করেন, জাতীয় দিবসে উপ-উপাচার্যের অবস্থান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। তিনি বলেন, “উপাচার্যকে জিম্মি করে অনৈতিক দাবি তোলা হয়েছে। আমি বারবার একসঙ্গে উদযাপনের আহ্বান জানিয়েছি, কিন্তু তারা শর্তের কথা তুলে অংশ নেয়নি।” পরে উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে কর্মসূচি সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।