উল্লাপাড়ায় কুয়াশার কারণে লোকসানের আশঙ্কায় মধুচাষিরা
বেশ কিছুদিন ধরেই শীতের তীব্রতা বেড়েছে। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চলে মানুষের জীবনযাত্রায় ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। হিমেল হাওয়ার সাথে যোগ হয়েছে ঘন কুয়াশা। দৃশ্যমানতা কমেছে বিভিন্ন স্থানে। এসব কারণে শুধু মানুষের জীবনযাত্রা নয় ব্যাহত হচ্ছে কৃষির উৎপাদনও। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ঘন কুয়াশা থাকায় ব্যাহত হচ্ছে মধু চাষ। দিনের বেলায়ও মৌমাছি বাক্স থেকে বের হচ্ছে না। এতে করে বাইরে থেকে মধু সংগ্রহ বন্ধ করেছে মৌমাছিরা। উপরন্তু আগে থেকেই সংগ্রহ করে রাখা মধুও তারা খেয়ে ফেলছে। ফলে মাথায় হাত পড়েছে মধুচাষিদের। আবহাওয়া এমনই চলতে থাকলে লোকসান হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চাষিরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাঠে সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহে মৌখামারিদের শত শত মধুর বাক্স বসানো আছে। তবে কুয়াশার কারণে খামারে মধু সংগ্রহ তুলনামূলক কম হবে বলে আশঙ্কা করছেন চাষিরা।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘন কুয়াশা ছিল মাঠে। এর আগে শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) ও আগের দিন বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দিনের বেশিরভাগ সময় কুয়াশা ছিল।
বড় পাঙ্গাসীর বাংলাপাড়া মোড় এলাকা, খাদুলী মাঠ এবং উধুনিয়া মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, মধুর বাক্সগুলোর বাইরে মৌমাছির তেমন আনাগোনা নেই। এসময় আবহাওয়ায় ঘন কুয়াশা ছিল।
পলাশ মৌখামারের মো. মালিক রিপন বলেন, দিনে কুয়াশা থাকায় মধু সংগ্রহে বাক্সগুলো থেকে মৌমাছি বের হচ্ছে না। বেশি পরিমাণ মধু সংগ্রহে রোদ ও কুয়াশার দরকার। রাতে কুয়াশা নামলে আর দিনে রোদ হলে মধু সংগ্রহ বেশি হয়।
আরেক খামারি মো. মারুফ বলেন, দিনে কুয়াশা থাকায় খামারের মৌমাছি বাক্স থেকে বের হয় না। বের হলেও খুবই কম মৌমাছি বের হয়। এতে মৌমাছি জমানো মধু খেয়ে ফেলে।
উল্লাপাড়া উপজেলা মৌ খামার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সুমী মৌ খামারের মালিক মো. ছোরমান আলী বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে এবছর মধু উৎপাদন কম বলে মনে হচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে যদি আবহাওয়া অনুকূল হয়, তাহলে হয়তো সমস্যার সমাধান হতে পারে। তা না হলে মধু উৎপাদন কমে যাবে।