গাজীপুরে জাসাস নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
গাজীপুরের শ্রীপুরে জাসাস নেতা ফরিদ সরকারকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) ভোর ৪টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার গোসিংগা ইউনিয়নের কেবিএম ব্রিক্স (ইট খলায়) তাকে হত্যা করা হয়।
ফরিদ সরকার গোসিংগা ইউনিয়নের নারায়নপুর গ্রামের জামাল উদ্দিন সরকারের ছেলে। তিনি গোসিংগা ইউনিয়ন জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
নিহতের বাবা জানান, ফরিদ রাত সাড়ে ১০টার দিকে খাবার খেয়ে বাড়ি থেকে বের হন ইটভাটায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে। পরে গোসিংগা ইউনিয়নের সদস্য সবুজের মাধ্যমে জানা যায়, তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত। ইটভাটায় এসে ফরিদকে মাটিতে পড়ে দেখেন, তার গায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। তাকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসার পর গাজীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত ঘোষণা করা হয়।
কেবিএম ব্রিকসের কর্মচারী জাকির হোসেন ও মিনারুল জানান, রাত ২টার দিকে ফরিদ ইটভাটায় আসেন। রাত ৩টার দিকে চারজন রামদা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে এসে ফরিদকে পিটতে শুরু করেন। তারা ভয়ে পাশের দিকে লুকিয়ে থাকেন। শুধু কান্না এবং কোপানোর চিৎকার শুনতে পাই।
কেবিএম ব্রিকসের ম্যানেজার (ব্যবস্থাপক) প্রদীপ সরকার জানান, ভোর ৪টার দিকে তর্কাতর্কি এবং চিৎকার শুনে বের হয়ে দেখি একটি ফরিদ অফিসের সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। স্থানীয় মেম্বারকে মুঠোফোনে ঘটনাটি জানালে ফরিদ সরকারের স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
স্থানীয় ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বার খোরশেদ আলম রফিক জানান, রাতের দিকে ইটভাটার ম্যানেজার তাকে ফোন দিয়ে জানায় ফরিদকে ভাটায় কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। পরে তার ভাই সবুজকে খবর দিলে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির আহমদ জানান, ইটাখলায় এক যুবক হত্যার খবর পাওয়ার পর আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লোকজন ও ইটভাটার কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলছি। কিছু আলামত পাওয়া গেছে, তবে তদন্ত চলমান থাকায় আপাতত বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না।