নির্বাচিত হয়ে যা বললেন ভিপি রিয়াজুল
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে সব ভোটারের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধার বার্তা দিয়েছেন ছাত্রশিবির সমর্থিত অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেল থেকে বিজয়ী ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম। বুধবার (৭ জানুয়ারি) মধ্যরাতে ফল ঘোষণার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত পরিপক্ক এবং মেধাবী। শিক্ষার্থীরা নিজেদের বিচারবুদ্ধি অনুযায়ী যাকে যোগ্য মনে করেছেন তাকেই ভোট দিয়েছেন। কেউ ছাত্রদলকে বেছে নিয়েছেন, আবার কেউ আমাদের প্যানেলকে ভোট দিয়েছেন। যারা আমাকে ভোট দিয়েছেন ও যারা দেননি, উভয়ের সিদ্ধান্তকেই আমি সমান সম্মানের চোখে দেখি এবং শিক্ষার্থীদের রায়ের প্রতি আমি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল।’
নির্বাচনে শিবিরের নেতৃত্বাধীন প্যানেলের ভূমিধস বিজয় নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই ধরনের বড় শব্দ আমি ব্যবহার করতে চাই না, কারণ জয়-পরাজয় একমাত্র মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে। ছাত্র সংসদ নির্বাচন মূলত একটি প্রতিনিধিত্ব করার প্রক্রিয়া মাত্র।’
এবারের জকসু নির্বাচনে শীর্ষ তিন পদেই ছাত্রশিবির সমর্থিত অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেল জয় লাভ করেছে। নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে এই প্যানেলের প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম ৫ হাজার ৫৫৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার পরিষদ সমর্থিত প্রার্থী একেএম রাকিব পেয়েছেন ৪ হাজার ৬৮৮ ভোট। ফলে ভিপি পদে রিয়াজুল ইসলাম ৮৭০ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন।
সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে শিবির সমর্থিত অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেলের আব্দুল আলিম আরিফ পেয়েছেন ৫ হাজার ৪৭০ ভোট। তার নিকটতম ছাত্রদল সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ নির্ভিক জবিয়ান প্যানেলের জিএস প্রার্থী খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন ২ হাজার ২০৩ ভোট। ৩ হাজার ২৬৭ ভোট বেশি পেয়েছেন শিবির প্রার্থী।
অন্যদিকে এজিএস পদে শিবির সমর্থিত অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেলের মাসুদ রানা পেয়েছেন ৫ হাজার ২ ভোট। তার নিকটতম ছাত্রদল সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ নির্ভিক জবিয়ান প্যানেলের এজিএস প্রার্থী বিএম আতিকুর তানজিল পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৬৮ ভোট। এই পদে ১১৩৪ ভোট বেশি পেয়েছেন শিবির প্যানেলের মাসুদ রানা।
জকসু নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ১৬ হাজার ৬৪৯ জন। প্রায় ৬৫ শতাংশ ভোট পড়ে বলে জানান নির্বাচন কমিশনার জুলফিকার মাহমুদ। একই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র হল নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল সংসদেও ভোট হয়। হল সংসদের মোট ভোটার ছিলেন ১ হাজার ২৪২ জন, সেখানে প্রায় ৭৭ শতাংশ ভোট পড়ে।