ভোলায় টানা তৃতীয় দিনের মতো বন্ধ ১০টি নৌরুট, দুর্ভোগে যাত্রীরা
মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে দ্বীপ জেলা ভোলায় টানা তৃতীয় দিনের মতো চলছে বৈরী আবহাওয়া। রবিবার (৬ জুলাই) সকাল থেকেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন, থেমে থেমে হচ্ছে গুঁড়ি গুঁড়ি ও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ। সাগর উত্তাল থাকায় দেশের সমুদ্র বন্দরগুলোতে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে। এর ফলে ভোলার অভ্যন্তরীণ ১০টি নৌরুটে আজও যাত্রীবাহী লঞ্চ ও সী-ট্রাক চলাচল বন্ধ রয়েছে।
এতে করে ভোলা-লক্ষীপুর, মনপুরা-ঢাকা, চরফ্যাশন-ঢাকা, দৌলতখান-আলেকজান্ডারসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে যাতায়াতকারীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে রাস্তাঘাট কাদাময় হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে নৌরুট বন্ধ থাকায় ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ ও দিনমজুররা।
অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল বন্ধ থাকায় ভোলা-ইলিশা ফেরিঘাটে যাত্রীদের প্রচণ্ড ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সীমিত ফেরি চলাচল থাকায় অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না। যাত্রীদের অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধ ট্রলারযোগে নদী পাড়ি দিচ্ছেন, যা বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে।
ভোলা আবহাওয়া অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, রবিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী এক-দুই দিনও এমন আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন তিনি।
এদিকে বিআইডব্লিউটিএর ভোলা নদীবন্দরের সহকারী পরিচালক রিয়াদ হোসেন জানান, সমুদ্র এখনো উত্তাল থাকায় সতর্কতা হিসেবে সমুদ্রবন্দরগুলোতে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে। তাই জননিরাপত্তার কথা বিবেচনায় রেখে ভোলা জেলার ইলিশা-লক্ষীপুর, তজুমদ্দিন-মনপুরা, হাতিয়া-ঢাকা, চরফ্যাশন-ঢাকা, মনপুরা-ঢাকা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ১০টি রুটে যাত্রীবাহী লঞ্চ ও সী-ট্রাক চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলেও জানান তিনি।
প্রচণ্ড দুর্যোগের মধ্যেও খেটে খাওয়া মানুষের জীবিকা নির্বাহে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি ও যাতায়াত বিপর্যয়ের ফলে ভোলা জেলার জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে জরুরি নৌযান ব্যবস্থাপনা ও বিকল্প যাতায়াত ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।