মোহাম্মদপুরে মা-মেয়েকে হত্যা: গৃহকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডে মা ও মেয়েকে হত্যার ঘটনায় হত্যার সেই গৃহকর্মীকে (আয়েশা) আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে তাকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে নিহত লায়লা আফরোজের স্বামী আ জ ম আজিজুল ইসলাম বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানা একটি মামলা দায়ের করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আব্দুল্লাহ আল মামুন।
তিনি জানান, মোহাম্মদপুরের শাজাহান রোডে মা ও তার মেয়েকে হত্যার ঘটনায় কথিত গৃহকর্মী আয়েশাকে আসামি করে নিহত নাফিসার বাবা আজম আজিজুল ইসলাম বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানা একটি মামলা (মামলা নং-২৯) দায়ের করেছেন। এসআই শহিদুল ওসমান মাসুমকে মামলাটির তদন্তের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মামলার এজাহারে আজিজুল ইসলাম উল্লেখ করেন, শাহজাহান রোডের ৩২/২/এ (৭/বি) ফ্ল্যাটে তিনি পরিবার নিয়ে থাকেন। চার দিন আগে আসামি (আয়েশা) গৃহকর্মী হিসেবে তার বাসায় কাজ শুরু করেন। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সকাল ৭টার দিকে কর্মস্থল উত্তরায় চলে যান। সেখান থেকে মোবাইল ফোনে একাধিক বার স্ত্রীর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে বেলা ১১টার দিকে বাসায় এসে দেখতে পান, তার স্ত্রীর গলাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কাটা ও রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে আছে। মেয়ের গলার ডান দিকে কাটা এবং মেইন গেটের দিকে পড়ে আছে। তাকে উদ্ধার করে পরিছন্নকর্মী মো. আশিকের মাধ্যমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এজাহারে তিনি আরও বলেন, ‘আমি বাসার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখতে পাই, আসামি (গৃহকর্মী আয়েশা) সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে কাজ করার জন্য বাসায় আসেন এবং সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে আমার মেয়ের একটি মোবাইল, একটি ল্যাপটপ, স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থসহ অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী (সঠিক পরিমাণ স্মরণ নেই) নিয়ে যায়।’
‘সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে আমি নিশ্চিত হই, অজ্ঞাত কারণে সকাল ৭টা ৫১ থেকে ৯টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে যেকোনো সময় আমার স্ত্রী ও মেয়েকে ছুরি অথবা অন্য কোনো ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতর জখম করে হত্যা করেছে।’
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের একটি বাসা থেকে লায়লা আফরোজ ও তার মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজ হত্যার করা হয়। হত্যার পর খুনি মুখে মাস্ক লাগিয়ে কাঁধে একটি ব্যাগ ও স্কুল ড্রেস পরে বেরিয়ে যান।