পাঁচ ঘণ্টা পর কড়াইল বস্তির আগুন নিয়ন্ত্রণে, পুড়ে ছাই কয়েকশ ঘর
প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে লাগা ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৫টা ২২ মিনিটে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল এবং রাত ১০টা ৩৫ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, ফায়ার সার্ভিসের ১৯টি ইউনিট রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তবে, বস্তির ঘিঞ্জি এলাকা এবং ঘটনাস্থলে তীব্র পানি সংকটের কারণে আগুন নেভাতে কর্মীদের ব্যাপক বেগ পেতে হয়।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করায় বস্তির শতাধিক ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
আগুনে ঘর পুড়েছে বস্তির বাসিন্দা লাভলী বেগমের। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার সব আগুনে পুড়ে শেষ। সাত বছর ধরে এই বস্তিতে আছি। অনেক কষ্টে তিল তিল করে জিনিসপত্র কিনেছিলাম। ঘরে টিভি, ফ্রিজসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র কিনেছি। মাসে মাসে কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে হয়। এ আগুনে আমার সব শেষ হয়ে গেল।’
সিটি করপোরেশনে সড়ক মেরামত কর্মী জানান, তার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনসহ কড়াইল বস্তির নৌকাঘাটে থাকেন। আগুন লাগার সময় তিনি ছিলেন মোহাম্মদপুর শিয়া মসজিদ এলাকায়। তার স্ত্রীও ছিলেন গার্মেন্টসে। কেউ ঘরে ছিলেন না। কিন্তু আগুনের খবরে বস্তিতে এসে দেখেন তাদের ঘর পুড়ে ছাই। জমানো ২০ হাজার টাকা ছিল, সেটাও পুড়ে গেছে।
রাব্বি বলেন, ‘মোহাম্মদপুর থেকে এসে স্ত্রীর দেখা পেলেও ঘরের কিছুই পাইনি। আগুনে আমার সব শ্যাষ। এই শীতের রাতে থাকমু কই।’
কড়াইল বস্তির একপাশে গুলশান, অন্য পাশে বনানীর মতো অভিজাত এলাকা। প্রায় ৯০ একর জায়গার ওপর গড়ে ওঠা বস্তিতে অন্তত ১০ হাজার ঘর রয়েছে। সেখানে মাঝেমধ্যেই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি, গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর ও ২৪ মার্চ আগুনে পুড়ে যায় বেশ কিছু ঘর।