বিজিবির উপর চোরাকারবারির সংঘবদ্ধ হামলা আহত ৪, থানায় মামলা!
কুড়িগ্রামে টহলরত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা চালিয়েছে চোরাকারবারিরা। হামলায় চার বিজিবি সদস্য আহত হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেছে বিজিবি।
গতকাল শনিবার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা থানা এলাকার নারায়ণপুর ইউনিয়নের পূর্বপাখিউড়াচর এলাকায় হামলার ঘটনাটি ঘটে।
রবিবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কচাকাটা থানায় ৩৭ জনকে অভিযুক্ত করে একটি এজাহার দিয়েছে বিজিবি।
বিজিবির এজাহার সুত্রে জানা যায়, গতকাল শনিবার (২৫ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে পাখি উড়াচর বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে ফেরার পথে জানতে পারেন বেশকিছু চোরাকারবারি মালামাল ভারত থেকে বাংলাদেশে আনার জন্য ভারতে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। খবর পেয়ে বিজিবি টহলদল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের বাড়ি ফিরে যেতে নির্দেশ দেয়। এসময় তার ওই স্থান থেকে চলে যায়।
পরে বিজিবি সদস্যরা ক্যাম্পে ফেরার পথে পূর্ব পাখিউড়া চর গ্রামে ৩০- ৪০জন চোরাকারবারি বিজিবির উপর হামলা করে। এসময় তারা সরকারি অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করে। আত্মরক্ষার্থে বিজিবি সদস্যরা পাঁচ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন। এতে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
আহতরা বিজিবি সদস্যরা হলেন সুবেদার মো. আব্দুল আলীম, ল্যান্স নায়েক মো. মমিনুল ইসলাম, সিপাহী আল মামুন ও সিপাহী মো. শিহাব। তাঁদের নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
অভিযুক্ত চোরাকারীদের মধ্যে রয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম, হাসেন আলী, হোসেন আলী, হেলাল আহমেদ, নজরুল ইসলাম, মাসুদ, মোস্তফা আলী, আজিজুল ইসলাম, আজিজুল ইসলাম-২ মোতালেব, রেজাউল ইসলাম, শাহ আলম, হেলাল উদ্দিন, রেজাউল ইসলাম, এরশাদ আলী, আব্দুল মজিদ, হোসেন আলী, আব্দুল কাদের, মোজাম্মেল হক ও ময়েজ আলী।
কচাকাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এআই অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. ইব্রাহীম আলী বলেন, হামলার ঘটনায় বিজিবি ৩৭ জনকে আসামি করে একটি এজাহার করেছে। বিষয়টি মামলার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বিজিবির কুড়িগ্রাম ২২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহাবুব উল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সীমান্ত পরিস্থিতি এখন শান্ত আছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে সীমান্ত এলাকায় কাজ করছি। মামলা হয়েছে।