বাকৃবির হলগুলোতে একের পর এক চুরি, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থীরা
ক্যাম্পাস মেইল · 2026-09-03 08:20:24 · রিসালাত আলিফ
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কয়েকটি আবাসিক হলে ধারাবাহিক চুরির অভিযোগ উঠেছে। একই সময়ে ক্যাম্পাসের বোটানিক্যাল গার্ডেন ও বৈশাখী চত্বরেও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় হলের পেছনের অংশ, জানালা ও প্রবেশপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।সর্বশেষ গত ৩০ আগস্ট রাতে ফজলুল হক হলের ‘ডি’ ব্লকের তৃতীয় তলায় একাধিক কক্ষে চুরির অভিযোগ পাওয়া যায়। পরে আরও একটি কক্ষে চুরির চেষ্টা করার সময় কক্ষের বাসিন্দার নজরে পড়লে এক ব্যক্তি পালিয়ে যান।ফজলুল হক হলের শিক্ষার্থী সোয়াইব বলেন, হলের পেছনের অংশ নিয়মিত পরিষ্কার করা, নষ্ট কাঁটাতার মেরামত এবং ওই এলাকায় আলো ও নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।ফজলুল হক হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. রায়হান হাবিব বলেন, চুরি প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সতর্ক করে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। মূল্যবান জিনিসপত্র লকারে রাখার পাশাপাশি বাইরে থেকে হাত বাড়িয়ে নেওয়া যায়—এমন স্থানে না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হলের পেছনের অন্ধকার জায়গায় আলো স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুরো পেছনের এলাকা নজরদারির আওতায় আনতে সিসিটিভি স্থাপনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে।এর আগে একই দিন সন্ধ্যায় শহীদ শামসুল হক হলের ‘এ’ ব্লকের তৃতীয় তলা থেকে এক ব্যক্তিকে আটক করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরও আগে ৪ আগস্ট রাতে ওই হলের ‘সি’ ব্লকের পেছন দিয়ে এক ব্যক্তি হলে ঢুকে বাথরুমের পাইপ বেয়ে উঠে ২২৮ নম্বর কক্ষের জানালা দিয়ে একটি স্মার্টফোন নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।শামসুল হক হলের শিক্ষার্থী দিগন্ত বলেন, হলের পেছনের অংশের বাউন্ডারি টপকে সহজেই ভেতরে প্রবেশ করা সম্ভব। ওই এলাকায় কার্যকর সিসিটিভি স্থাপনের পাশাপাশি নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।শামসুল হক হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আবুল মঞ্জুর খান বলেন, চুরির ঘটনায় শিক্ষার্থীদের আটক করা ব্যক্তিকে পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিরাপত্তাকর্মীদের সতর্ক করার পাশাপাশি হলে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় সবার নাম নথিভুক্ত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য একজন কর্মীও বাড়ানো হয়েছে।চুরির অভিযোগ রয়েছে মাওলানা ভাসানী হলেও। গত ২২ আগস্ট ‘এ’ ব্লকের ১০৫ নম্বর কক্ষে থাকা নেপালি শিক্ষার্থীদের দুটি ফোন চুরি হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এর মধ্যে একটি ফোন ২৪ আগস্ট ফেরত পাওয়া গেলেও মানিব্যাগ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। ২৭ আগস্ট একই ব্লকের ১০৪ নম্বর কক্ষ থেকেও একটি ফোন চুরির অভিযোগ পাওয়া যায়।মাওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থী জায়েদ মন্ডল বলেন, পর্যাপ্ত সিসিটিভি স্থাপনের পাশাপাশি নিরাপত্তাকর্মীদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গাফিলতি থাকলে এ ধরনের ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে।শুধু হল নয়, ক্যাম্পাসের অন্যান্য স্থানেও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গত ৩০ আগস্ট বোটানিক্যাল গার্ডেন ও বৈশাখী চত্বরে ছিনতাইয়ের অভিযোগ পাওয়া যায়। পরে পৃথক অভিযান চালিয়ে দুই স্থান থেকে একাধিক ব্যক্তিকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি।বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা এ এস এম খায়রুল ফাত্তাহ বলেন, বৈশাখী চত্বর ও বোটানিক্যাল গার্ডেনের ঘটনায় একই ব্যক্তি জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই ৭-৮টি মামলা রয়েছে। বর্তমানে প্রক্টর অফিসের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম বলেন, আবাসিক হলগুলোতে চুরির ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হলের পেছনের অংশের আলো ও নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনা করে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে। নির্মাণকাজে সড়কের লাইট সরিয়ে নেওয়ায় জব্বারের মোড়-ফার্স্ট গেট সড়কের কিছু অংশ অন্ধকার থাকে। সিটি করপোরেশনের আওতাধীন হওয়ায় সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় নতুন লাইট বসাতে পারছে না। শিক্ষার্থীদের ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক এড়িয়ে চলার পরামর্শের পাশাপাশি ক্যাম্পাসে টহল জোরদার করা হয়েছে।