ময়মনসিংহ মেইল

জামালপুরে ভুল চিকিৎসার অভিযোগে দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা

বৃহত্তর ময়মনসিংহ · 2026-10-28 05:52:44 · স্টাফ রিপোর্টার

সোমবার (২৬ অক্টোবর) জামালপুর আমলী আদালতে মামলাটি দায়ের করেন সাবেরী শারমিন। অভিযুক্ত দুই চিকিৎসক হলেন এমএ রশিদ হাসপাতালের গাইনি চিকিৎসক ডা. সাবরিনা বরকত ও জেনারেল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে জামালপুরের সিভিল সার্জনকে তদন্ত করে পরবর্তী তারিখে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী সাবেরী শারমিন জামালপুর শহরের পূর্ব নয়াপাড়া এলাকায় বসবাস করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সাবেরী শারমিন জামালপুর সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসের উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত। চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি তলপেটে ব্যথা নিয়ে তিনি জামালপুরের বেসরকারি এমএ রশিদ হাসপাতালে ভর্তি হন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর ডিম্বনালি ও ডিম্বাশয়ের চারপাশে সংক্রমণ এবং ডান পাশের ডিম্বাশয়ে রক্তভর্তি সিস্ট রয়েছে বলে জানানো হয়। পরে চিকিৎসকেরা তাঁকে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন।

এরপর ২৯ জানুয়ারি ডা. সাবরিনা বরকত ও ডা. মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের তত্ত্বাবধানে তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, এ সময় রোগী বা তাঁর স্বজনদের অনুমতি ছাড়াই জরায়ু ও ডিম্বাশয় কেটে ফেলা হয়। তবে সেগুলো সম্পূর্ণ অপসারণ না করায় কিছু অংশ ভেতরে থেকে যায়। পরবর্তী সময়ে সংক্রমণের কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে।

পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসকেরা আবারও অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিলে সাবেরী শারমিন এমএ রশিদ হাসপাতাল ছেড়ে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে গত ৫ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচার করে সংক্রমিত তরল ও পুঁজ বের করা হয়। তাঁর অভিযোগ, এ সময় প্রথম অস্ত্রোপচারের ত্রুটির বিষয়টি সামনে আসে।

তবে সংক্রমণ দূর হলেও পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে যান সাবেরী শারমিন। সেখানে গত ২৩ মার্চ তৃতীয় দফায় এবং ২০ জুন চতুর্থ দফায় তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয়।

সাবেরী শারমিন বলেন, “একটি ভুল অপারেশনের কারণে আমাকে চারটি অপারেশন করাতে হয়েছে। তাই আমি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। আমি ন্যায়বিচার চাই। এমএ রশিদ হাসপাতালে অপারেশনের জন্য ১ লাখ ৮৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু সব মিলিয়ে আমার ৫০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।”

তাঁর স্বামী সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের শিক্ষক মোহাম্মদ ফারুক হোসাইন বলেন, “এমএ রশিদ হাসপাতালের বাইরের চাকচিক্য দেখে আমরা সেখানে গিয়েছিলাম। কিন্তু চিকিৎসকের ভুলের কারণে আমরা বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।”

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইয়াসিন আরাফাত বলেন, ভুল চিকিৎসার অভিযোগে দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সাবেরী শারমিন মামলা করেছেন। জামালপুর আমলী আদালতের বিচারক মোস্তাফিজুর রহমান মামলাটি গ্রহণ করে সিভিল সার্জনকে তদন্ত করে পরবর্তী তারিখে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আজিজুল হক বলেন, “এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে এমএ রশিদ হাসপাতালে গিয়ে অভিযুক্ত দুই চিকিৎসক বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।


আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত