পুলিশ পরিচয়ে নজরুলের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের টার্গেট, জুলাইয়ে ৩ প্রতারণা
ক্যাম্পাস মেইল · 2026-08-01 14:06:22 · মেইল ডেস্ক
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের টার্গেট করে পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিচয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে একটি প্রতারক চক্র। জুলাই মাসে একই কৌশলে অন্তত তিনটি প্রতারণার ঘটনা সামনে এসেছে।
এরমধ্যে এক অভিভাবকের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি আরও একটি ঘটনায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা আদায়ের চেষ্টা চালানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ গত ৩০ জুলাই এক নারী শিক্ষার্থীর মায়ের কাছে ফোন করে নিজেদের ডিবি পুলিশের কর্মকর্তা পরিচয় দেয় প্রতারকরা। তারা দাবি করে, তার মেয়েকে একটি আবাসিক হোটেল থেকে আটক করা হয়েছে। সামাজিক সম্মানহানির ভয় দেখানোর পাশাপাশি ফোনের অপর প্রান্তে এক নারীর কান্নার শব্দ শোনানো হয়। পরে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বিকাশে পাঠানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়।
তবে আগের দিনের প্রতারণার ঘটনার বিষয়ে জানার কারণে ওই অভিভাবক টাকা পাঠাননি। পরিবারের সদস্য ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি যাচাই করায় তিনি আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পান।
এর আগে, ২৯ জুলাই ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের এক শিক্ষার্থীর মিডটার্ম পরীক্ষা চলাকালে তার মোবাইল বন্ধ থাকায় সুযোগ নেয় প্রতারক চক্র। শিক্ষার্থীর বাবাকে ফোন করে নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে বলা হয়, তার ছেলেকে মাদকসহ আটক করা হয়েছে। পরে মামলা থেকে ছাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে বিকাশের মাধ্যমে ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।
এছাড়া গত ৭ জুলাই ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গেও একই ধরনের প্রতারণার ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীর বাবাকে ফোন করে গাঁজাসহ আটক করার কথা বলে দ্রুত দুই হাজার টাকা বিকাশে পাঠাতে বলা হয়। ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে আতঙ্কিত বাবা টাকা পাঠিয়ে দেন। পরে শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, এটি ছিল পরিকল্পিত প্রতারণা।
পরপর তিনটি ঘটনার পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ ধরনের ফোনকল সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে। একইসঙ্গে প্রতারকরা কীভাবে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য, অভিভাবকদের ফোন নম্বর কিংবা পরীক্ষার সময়সূচি সম্পর্কে তথ্য পাচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের একাংশের আশঙ্কা, কোথাও থেকে তথ্য ফাঁস হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর তরিকুল ইসলাম জনি বলেন, অপরিচিত নম্বর থেকে এ ধরনের ফোন এলে কোনোভাবেই আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। টাকা পাঠানোর আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী, তার সহপাঠী, বিভাগ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই করতে হবে।
তিনি জানান, প্রতারণার শিকার হওয়া প্রথম অভিভাবক ৩১ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। একইসঙ্গে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতন করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও এ ধরনের প্রতারণামূলক ফোনকল সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। কোনো সন্দেহজনক ফোনকল পেলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।