চবিতে প্রভোস্টের কক্ষে তালা, ২ ঘণ্টা পর মুক্ত
ক্যাম্পাস মেইল · 2026-09-15 11:38:15 · মেইল ডেস্ক
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আলাওল হলে নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবিতে তার কক্ষ ও হল অফিসে তালা দিয়েছেন হল সংসদের নেতারা ও শিক্ষার্থীরা। এ সময় প্রভোস্ট এবং সহকারী রেজিস্ট্রারসহ পাঁচজন আটকা পড়েন। পরে উপাচার্যের আশ্বাসে প্রায় দুই ঘণ্টা পর তালা খুলে দিলে মুক্ত হন তারা।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে প্রভোস্টের কক্ষে ও হল অফিসে তালা দেওয়া হয়। পরে প্রক্টরিয়াল বডির উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে উপাচার্যের আশ্বাসে বিকেল ৩টার দিকে তালা খুলে দেওয়া হয়।
হল সংসদ ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হলের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ ও সংকট সমাধানে প্রভোস্ট কার্যকর উদ্যোগ নেননি। তিনি শিক্ষার্থী, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত, অপমান ও অপদস্থ করেছেন। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের হল কার্ড জমা নিয়ে রাখা, শিক্ষার্থীদের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়ে এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং হল সংসদের সঙ্গে সমন্বয় না করার অভিযোগও করেন তারা। এ ঘটনায় হল সংসদ প্রোভোস্টকে অবাঞ্ছিত করে পদত্যাগের দাবি জানায়। এসব অভিযোগের বিষয়ে ৩৭ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ১৭৮ শিক্ষার্থী স্বাক্ষর করেছেন বলে জানান তারা।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক জমালুল আকবর চৌধুরী বলেন, আমার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। অভিযোগ সুনির্দিষ্টভাবে জানানো হলে তা সমাধানের চেষ্টা করতাম। গত মে মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর হলের আবাসন সংকট, ডাইনিং, খেলাধুলা ও সংস্কারকাজে আমি বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, হলে অবৈধভাবে অবস্থান করা শিক্ষার্থীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করায় আমার বিরুদ্ধে খারাপ আচরণের অভিযোগ তোলা হচ্ছে। দাপ্তরিক কাজে হলে আসার পর আমাকে কক্ষে আটকে বাইরে থেকে তালা দেওয়া হয়েছে। কারও অভিযোগ থাকলে প্রমাণসহ আমার সঙ্গে কথা বলা উচিত ছিল। অভিযোগের সমাধানের সুযোগ না দিয়ে এভাবে আটকে রাখাকে আমি ‘মব কালচার’ বলে মনে করি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক কামরুল হোসেন বলেন, শিক্ষার্থী ও হল স্টাফদের পক্ষ থেকে উপাচার্য বরাবর দুটি দাবিনামা জমা দেওয়ার পর আমরা দুজন হাউস টিউটরের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসি। উপাচার্য আশ্বস্ত করেছেন যে, প্রশাসনের সাধ্যের মধ্যে থাকা তাদের সব যৌক্তিক দাবি অতি দ্রুত মেনে নেওয়া হবে। উপাচার্যের এই আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা আশ্বস্ত হয়ে হলের প্রভোস্ট ও অফিস কক্ষের তালা খুলে দেয়। এর ফলে অবরুদ্ধ প্রভোস্ট মুক্ত হন এবং পরিস্থিতির স্বাভাবিক সমাধান হয়।
তালা খুলে দেওয়ার পর হল সংসদের সমাজসেবা, পরিবেশ ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বলেন, উপাচার্যের নির্দেশে আমাদের প্রক্টরিয়াল বডি এখানে এসেছিল। তারা আমাদের বুঝিয়েছেন যে, আমাদের দাবিগুলো খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধান হবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা তালা খুলে দিয়েছি। তবে শর্ত দিয়েছি, যতক্ষণ পর্যন্ত দাবি মানা না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত হল প্রভোস্ট ও হল অফিসে তালা দেওয়া থাকবে।