হালুয়াঘাটে সরকারি ঘর-ভাতা দেওয়ার নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
বৃহত্তর ময়মনসিংহ · 2026-09-02 13:44:07 · শরিফুল হাসান রানা
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে সরকারি ঘর, পানির মোটর, টিসিবি ও ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগের পর তদন্তে নেমেছে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়।অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, হালুয়াঘাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সহজ-সরল ও নিম্নআয়ের মানুষের কাছে গিয়ে সরকারি ঘর, পানির মোটর, টিসিবি, ফ্যামিলি কার্ড, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, গর্ভকালীন ভাতা ও শিশু ভাতা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়। এসব সুবিধার জন্য আবেদন ও তালিকাভুক্তির কথা বলে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, ছবি, মোবাইল নম্বর ও আবেদন ফরমে স্বাক্ষর নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্কের টাকা নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।অভিযোগে মোতালেব, আমেনা খাতুন, জায়দা খাতুন, হাজেরা খাতুন, শিরিন ও রেহেনা নামের ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তাধীন।পশ্চিম মনিকুড়া গ্রামের বাসিন্দা রাশিদা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি রেহেনারে ৪০ হাজার টেহা দিছি। হে আমারে ঘর আর মটার দিবো কইছে। কিছুই দিছে না, টেহাও দিছে না। আমি আমার টেহা ফেরত চাই।’আরেক ভুক্তভোগী সেলিনা আক্তার বলেন, ‘হাজেরা ঘর দিবো কইয়া ২৩ হাজার টেহা নিছে। ছাগল-গরু বেইচ্চা টেহা দিছি। ঘর দিছে না, টেহাও দে না। আমি এর বিচার চাই।’ভুক্তভোগীদের দাবি, সরকারি সুবিধার আশায় তাঁরা ধারদেনা করে কিংবা গবাদিপশু বিক্রি করে টাকা দিয়েছেন। পরে প্রতিশ্রুত সুবিধা না পাওয়ায় তাঁরা টাকা ফেরত ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে গত ২৮ জুলাই সকাল ৯টার দিকে মনিকুড়া টুকিয়ার খালপাড় এলাকায় স্থানীয় ভুক্তভোগীরা মানববন্ধন করেন। ওই মানববন্ধনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।এ ছাড়া অভিযোগকারীরা দাবি করেন, এ চক্রের সঙ্গে আরও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারেন। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করা হলে তাঁদেরও পরিচয় বেরিয়ে আসবে।অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত ২৪ আগস্ট উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্টদের নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে ২৬ আগস্ট সকাল ১১টায় উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত তদন্ত কার্যক্রমে বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সাক্ষ্য-প্রমাণসহ উপস্থিত থাকতে বলা হয়।এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সানিয়াত সন্ধানি বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। একটি প্রতারক চক্র সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিচ্ছে—এমন অভিযোগ করা হয়েছে। ইউএনও মহোদয় একটি কমিটি করে দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।’অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। ফলে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।