নান্দাইলে রাইস মিলে হামলা, ও তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ, ৩জনের নামে মামলা
বৃহত্তর ময়মনসিংহ · 2026-09-11 14:28:07 · ফরিদ মিয়া
ময়মনসিংহের নান্দাইলে পূর্ববিরোধের জের ধরে একটি রাইস মিলে হামলা, শ্রমিককে মারধর, ধান লুট এবং মিলে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর নান্দাইল মডেল থানায় তিন ভাইসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই-তিনজনের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করা হয়েছে। উন্দাইল গ্রামের মৃত মোখলেছুর রহমানের ছেলে সবুজ মিয়া, হলুদ মিয়া ও রাজন মিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার বাদী রাইস মেইল মালিক রাসেল মিয়া জানান, অভিযোগ দায়ের করার পর আসামীরা পুনরায় হামলা সহ প্রাণনাশের হুমকী দিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর সকালে উপজেলার গাংগাইল ইউনিয়নের উন্দাইল গ্রামের ওই রাইস মিলে রাসেল মিয়ার ছোট ভাই মো. রিয়ান মিয়া ধান ভাঙানোর কাজ করছিলেন। এ সময় সবুজ মিয়া, হলুদ মিয়া, রাজন মিয়াসহ কয়েকজন ব্যক্তি মিলে প্রবেশ করে কাজে বাধা দেন। একপর্যায়ে প্রতিবাদ করায় রিয়ান মিয়াকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। রাসেল মিয়ার অভিযোগ, এ সময় অভিযুক্তরা রাইস মিলে রাখা প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ মণ ধান নিয়ে যায়, যার আনুমানিক মূল্য ৪০ হাজার টাকা। পরে রাইস মিলে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে কাউকে তালা খুলতে নিষেধ করা হয়। এ বিষয়ে থানায় মামলা করলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মামলার বাদী রাসেল মিয়া বলেন, অভিযোগ দায়েরের পরও অভিযুক্তরা পুনরায় হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। এতে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার না করে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন অভিযুক্ত রাজন মিয়া। তিনি বলেন, তাঁদের সঙ্গে রাসেল মিয়ার প্রায় সাড়ে ২৮ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। জমিটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা বলে দীর্ঘদিন ধরে তালবাহানা করা হচ্ছে। এ কারণে তাঁরা ক্ষুব্ধ হয়ে রাইস মিলে তালা ঝুলিয়েছেন। জমিটি রেজিস্ট্রি করে দিলে তালা খুলে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম ও আলীউর রহমান বলেন, তাঁদের জানামতে দুই পক্ষের মধ্যে একটি জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। ওই বিরোধের জেরেই ঘটনার সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনায় অভিযোগটি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।