ত্রাণের খাবারের মেয়াদ শেষ, প্যাকেট খুলতেই বের হয় ইঁদুর!
বৃহত্তর ময়মনসিংহ · 2026-09-09 08:07:55 · স্টাফ রিপোর্টার
জামালপুরের মেলান্দহে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বরাদ্দ করা মানবিক সহায়তার খাদ্যসামগ্রী বিতরণ নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের গায়ে লেখা খাদ্যপ্যাকেট ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এসে বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে কোনো কোনো পণ্যের মেয়াদ এরই মধ্যে শেষ হয়ে গেছে। আবার কিছু পণ্যের মেয়াদ শেষ হতে বাকি ছিল মাত্র কয়েক দিন। এমনকি একটি প্যাকেট খোলার পর ভেতর থেকে ইঁদুর বের হওয়ার অভিযোগও করেছেন এক উপকারভোগী।
জানা গেছে, বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত দুস্থ ও অসহায় মানুষের মধ্যে মানবিক সহায়তা হিসেবে বিতরণের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে জেলায় শুকনা ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর আওতায় মেলান্দহ উপজেলায় বরাদ্দ দেওয়া হয় ১২৫ প্যাকেট খাদ্যসামগ্রী। পাঁচ ধাপে এসব খাদ্যপ্যাকেট উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ১ জুলাই জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে খাদ্যসামগ্রী বিতরণসংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বিতরণযোগ্য খাদ্যসামগ্রীর মেয়াদ সেপ্টেম্বর মাসেই শেষ হবে।
প্রতিটি প্যাকেটে ছিল ১০ কেজি চাল, এক কেজি করে তেল, লবণ, চিনি ও ডাল, ২০০ গ্রাম হলুদের গুঁড়া এবং ১০০ গ্রাম করে ধনিয়া ও মরিচের গুঁড়া। প্যাকেটের গায়ে লেখা রয়েছে, ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, ত্রাণসামগ্রী হিসেবে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, অর্থবছর ২০২৪-২০২৫।’
গত ২ সেপ্টেম্বর ত্রাণ পাওয়া মেলান্দহ পৌরসভার হাসনা বেগম এবং হাজরাবাড়ী পৌরসভার বাসিন্দা মো. হুরমুজের প্যাকেটে থাকা লবণের মেয়াদ শেষ হয়েছে ৩১ আগস্ট। অর্থাৎ ত্রাণ পাওয়ার দুই দিন আগেই ওই লবণের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।
এ ছাড়া কোনো কোনো পণ্যের মেয়াদ ৯ সেপ্টেম্বর এবং কোনো কোনো পণ্যের মেয়াদ ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রয়েছে। একই দিন ত্রাণ পাওয়া মেলান্দহ পৌরসভার লিটন ও বারেকের প্যাকেটেও একই ধরনের পণ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।
এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, মেয়াদ শেষ হওয়ার একেবারে কাছাকাছি সময়ে কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যসামগ্রী কীভাবে অসহায় মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হলো। বিশেষ করে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের খাদ্যসামগ্রী দুই অর্থবছর পেরিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিতরণের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ত্রাণের খাদ্যপ্যাকেট পাওয়া একাধিক উপকারভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, ‘আমাদের এসব পণ্য দিয়েছে। আমরা তো মূর্খ মানুষ, এত কিছু বুঝি না। লবণের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। বাকিগুলোরও মেয়াদ অল্প দিন। খাওয়ার আগেই মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে।’
এক উপকারভোগীর অভিযোগ, প্যাকেট খোলার সময় ভেতর থেকে ইঁদুর বের হয়ে দৌড়ে যায়। এতে খাদ্যসামগ্রী কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং সেগুলোর মান ঠিক ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিন্নাতুল আরা বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে গত ১ জুলাই তারা চিঠি পেয়েছেন। এরপর এক সপ্তাহের মধ্যে খাদ্যপ্যাকেটগুলো তাদের হাতে আসে। পরে ধাপে ধাপে উপকারভোগীদের মধ্যে সেগুলো বিতরণ করা হয়। গত ৪ সেপ্টেম্বর সম্পূর্ণ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ শেষ হয়েছে।
জামালপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহেল কাফি বলেন, ‘জুন ও জুলাই মাসে মন্ত্রণালয় থেকে ত্রাণ পেয়েছিলাম। পরে উপজেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়। সেখান থেকে কীভাবে বিতরণ করা হয়েছে, তা জানি না। মেলান্দহের পিআইও বর্তমানে প্রশিক্ষণে রয়েছেন। তার কাছ থেকে জেনে পরে জানানো যাবে।’