ময়মনসিংহ মেইল

ছাত্রদল নেতাকে মারধর, সরি বলে ত্রিশাল ছাড়লেন ইউএনও

বৃহত্তর ময়মনসিংহ · 2026-08-13 17:10:55 · সিনিয়র রিপোর্টার

ময়মনসিংহের ত্রিশালে বালুরঘাটে সারোয়ার জাহান ওরফে বাচ্চু নামে এক ছাত্রদল নেতাকে মারধরের ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকী বদলি করা হয়েছে। এদিকে, সন্ধ্যায় স্থানীয় সংসস্য ডা. মো. মাহবুবুর রহমান লিটনের মধ্যস্থতায় মাধরের ঘটনায় ইউএনও তার ভুল স্বীকার করে সরি বলেন।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকালে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব ড. গোলাম মোরশেদ সাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। ত্রিশালের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত সিদ্দিকীকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

ওই দিন বিকালে ত্রিশাল পৌর শহরের টিএমসি হাসপাতালে স্থানীয় সংসস্য ডা. মো. মাহবুবুর রহমান লিটনের উপস্থিতিতে বিষয়টি সুরাহা করা হয়। এতে ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এসময় ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী নিজের ভুল স্বীকার করে সরি বলেন।

এর আগে গত বুধবার বেলা দুইটার দিকে উপজেলার কাঁঠাল ইউনিয়নের কালীরবাজারের কুলুরবাড়ি এলাকায় ছাত্রদল নেতাকে মারধর করার ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ত্রিশালের ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকীর সঙ্গে আনসার ও র‍্যাবের সদস্যরা ওই বালু বিক্রির পয়েন্টে যান। ইউএনও ইজারারের কাগজপত্র দেখতে চান। এ সময় সেখানে থাকা ঠিকাদারের ব্যবস্থাপক ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি সারোয়ার জাহান ওরফে বাচ্চু অভিযানে আসা ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে চান। তখন আরাফাত সিদ্দিকী তাঁকে নিজের পরিচয় দিয়ে বলেন, তিনি ত্রিশালের ইউএনও এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন।

কথাবার্তার একপর্যায়ে ইউএনও সারোয়ার জাহানকে পরপর দুটি থাপ্পড় দেন। প্রথম থাপ্পড়টি দেন বাঁ হাতে, দ্বিতীয় থাপ্পড় দেন ডান হাতে। তখন র‍্যাবের এক সদস্য সারোয়াকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ইউএনও ওই সদস্যের হাত থেকে একটি লাঠি নিয়ে তাঁকে চারবার আঘাত করেন। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহবুবুর রহমান ইউএনওকে থামানোর চেষ্টা করেন।

সদর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এবং ওই ঘাটের পরিচালক শাহরিয়ার আহমেদ সেলিম বলেন, সন্ধ্যায় পৌর শহরের টিএমসি হাসপাতালে সংসদ সদস্যসের উপস্থিতিতে বিষয়টি সুরাহা করা হয়। ইউএনও নিজের ভুল স্বীকার করে সরি বলেন।

এ বিষয়ে ত্রিশালের জানতে উপজেলা নির্বাহীি কর্মকর্তা ইউএনও'র নাম্বারে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এবিষয়ে জানতে স্থানীয় সংসস্য ডা. মো. মাহবুবুর রহমান লিটনের নাম্বারে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত