ময়মনসিংহ মেইল

ভোগান্তির নাম শেখহাটি নালিতাবাড়ী সড়ক

বৃহত্তর ময়মনসিংহ · 2026-08-25 14:25:48 · স্টাফ রিপোর্টার

চরম ভোগান্তির আরেক নাম শেরপুর-শেখহাটি-গাজীরখামার-নালিতাবাড়ী সড়ক। শেরপুর জেলা সদরের পৌরসভার সীমান্ত শেখহাটি মোড় থেকে নালিতাবাড়ী উপজেলা পর্যন্ত সড়কটির বেহাল অবস্থা লাখো মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শেরপুর-নালিতাবাড়ী বিকল্প সড়ক হিসেবে পরিচিত এ সড়কটি এখন ভাঙাচোরা, খানাখন্দ ও বড় বড় গর্তে ভরে গিয়ে কার্যত জনদুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন অন্তত লক্ষাধিক মানুষ এবং হাজারো যানবাহন এই সড়ক ব্যবহার করে। সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ না হলেও উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ নিয়ে ক্ষোভের শেষ নেই ভুক্তভোগীদের।

শেরপুর সদর থেকে বাজিতখিলা-তিনানী হয়ে নালিতাবাড়ী উপজেলার প্রধান সড়কের দূরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটার। অন্যদিকে শেখহাটি ও গাজীরখামার হয়ে নালিতাবাড়ী পৌঁছাতে দূরত্ব মাত্র ২০ কিলোমিটার। প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ কম হওয়ায় সময় ও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য পণ্যবাহী ট্রাক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন এবং সাধারণ যাত্রীরা এই সড়ক ব্যবহার করেন।

বর্তমানে সড়কটির অবস্থা এতটাই নাজুক যে চলাচলই দুরূহ হয়ে পড়েছে। কোথাও পিচ ও ইট উঠে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে, আবার কোথাও দেড় থেকে দুই ফুট গভীর খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্ত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির এমন অবস্থা থাকলেও সম্প্রতি পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে ক্ষয়ক্ষতি আরও বেড়েছে। ফলে ছোট-বড় দুর্ঘটনা এখন প্রায় নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, প্রতি বছর বা দুই-এক বছর পরপর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) নামমাত্র সংস্কার কাজ করে। কিন্তু সংস্কারের তিন থেকে চার মাসের মধ্যেই সড়কটি আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। তাদের মতে, শুধু সংস্কার নয়, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সড়কটি প্রশস্ত ও টেকসইভাবে পুনর্নির্মাণ করা প্রয়োজন। অন্যথায় সরকারি অর্থের অপচয়ই হবে।

স্থানীয়দের দাবি, দুই উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে কম দূরত্বের এ সড়কে গত কয়েক বছরে যানবাহনের চাপ অনেক বেড়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে সড়কের প্রশস্ততা বাড়ানো কিংবা স্থায়ী সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা হাসেম, শিক্ষক সাইফুল ইসলাম, কৃষক মনোয়ার হোসেন এবং চালক মনিরুজ্জামান বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি দ্রুত ও স্থায়ীভাবে সংস্কার করা জরুরি। গুরুত্ব বিবেচনায় সড়কটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের পরিবর্তে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অধীনে হস্তান্তর করা প্রয়োজন। কারণ এলজিইডির বরাদ্দ সীমিত হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হচ্ছে না।

তাদের দাবি, ২০০৩ সালে তৎকালীন সংসদ সদস্য ও হুইপ জাহেদ আলী চৌধুরী সড়কটির গুরুত্ব বিবেচনায় এটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের কাছে হস্তান্তরের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু সেই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি।

এ বিষয়ে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খন্দকার মাহমুদুল আশরাফ বলেন, দেশে 'রুরাল কানেক্টিভিটি ইমপ্রুভমেন্ট' নামে একটি বড় প্রকল্প চালুর কথা রয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন ও বাস্তবায়ন শুরু হলে এ সড়ককে এর আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে। এছাড়া জনদুর্ভোগ কমাতে বিষয়টি সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত