২০ টাকার টিকিটে ৩০ লাখ টাকা জয়ের দাবি, অপেক্ষায় ঈশ্বরগঞ্জের হানিফ
বৃহত্তর ময়মনসিংহ · 2026-08-08 14:11:48 · স্টাফ রিপোর্টার
মাত্র ২০ টাকার একটি লটারির টিকিট। আর সেই টিকিটেই ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার হানিফ মিয়া (৩১)। তিনি দাবি করছেন, বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির (বিপিকেএস) জাতীয় লটারি-২০২৬-এর প্রথম পুরস্কার ৩০ লাখ টাকা জেতা ‘গ-০১৬৪৩৬৪’ নম্বরের টিকিটটি তার কাছে রয়েছে।
তবে আয়োজক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক যাচাই-বাছাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে চূড়ান্তভাবে বিজয়ী বলা যাবে না।
হানিফ মিয়া ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের আবদুর কুদ্দুসের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে কাজ করার পাশাপাশি হাঁসের খামার ও কৃষিকাজ করে সংসার চালান।
বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতি (বিপিকেএস) আয়োজিত সরকার অনুমোদিত ‘বিপিকেএস জাতীয় লটারি-২০২৬’-এর ড্র অনুষ্ঠিত হয় গত ১৯ জুলাই। এতে প্রথম পুরস্কার হিসেবে ৩০ লাখ টাকা নির্ধারিত হয় ‘গ-০১৬৪৩৬৪’ নম্বরের টিকিটের জন্য।
মহেশপুর গ্রামের বাড়িতে গিয়ে কথা হয় হানিফ মিয়ার সঙ্গে। তিনি লটারির টিকিটটি দেখিয়ে জানান, স্থানীয় মহেশপুর বাজারের একটি ফার্মেসিতে কাজ করার সময় লটারির টিকিট বিক্রির খবর পেয়ে ২০ টাকা করে দুটি টিকিট কেনেন। পরে অনলাইনে লটারির ফলাফল দেখার সময় একটি টিকিটের নম্বরের সঙ্গে প্রথম পুরস্কারের নম্বর মিলে যায়। বিষয়টি নিশ্চিত হতে মূল টিকিট নিয়ে বিপিকেএসের কার্যালয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে টিকিটটি পরীক্ষা করে।
হানিফ মিয়া বলেন, তার বাবা অন্যত্র সংসার করায় তিনি মা হামিদা বেগমকে নিয়ে নানাবাড়িতে থাকেন। তার আরও দুই বোন রয়েছে। সম্প্রতি তার ভগ্নিপতি বাবার কাছ থেকে বসতভিটার জমি কিনে নেওয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। সেই হতাশার মধ্যেই ভাগ্য যাচাই করতে লটারির টিকিট কেনেন।
হানিফ বলেন, পুরস্কারের টাকা পেলে একটি ফার্মেসি প্রতিষ্ঠা করবেন, হাঁসের খামার সম্প্রসারণ করবেন এবং পরিবারের দায়িত্ব আরও ভালোভাবে পালন করবেন।
হানিফের স্ত্রী নীলা আক্তার বলেন, ৪০ টাকা খরচ করে দুটি টিকিট কিনে আনায় আমি স্বামীকে বকাবকি করেছিলাম। এই টাকা দিয়ে সংসারের জন্য সবজি কিনলেও ভালো হতো। পরে একদিন আসরের নামাজ পড়ে এসে স্বামী আমাকে অনলাইনে লটারির ড্র মিলিয়ে দেখতে বলেন। যাচাই করে দেখি, আমাদের একটি টিকিটের নম্বর প্রথম পুরস্কার ৩০ লাখ টাকার সঙ্গে মিলে গেছে। প্রথমে বিশ্বাস হচ্ছিল না। কয়েকবার দেখার পরও যখন একই ফল পেলাম, তখন সবকিছু স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছিল। এই টাকা পেলে আমাদের সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির জাতীয় লটারি প্রকল্পের পরিচালক হাজী মো. আলম কবির বলেন, প্রথম পুরস্কারের দাবিদার হিসেবে এখন পর্যন্ত হানিফ মিয়াই মূল টিকিট নিয়ে আমাদের কার্যালয়ে এসেছেন। টিকিটটি প্রাথমিকভাবে সঠিক মনে হলেও বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক যাচাই-বাছাই করা হবে।
তিনি আরও বলেন, চলতি মাসের ২০ তারিখের পর যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সেপ্টেম্বরের শুরুতে অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কারের অর্থ তুলে দেওয়া হবে।
ফলে ২০ টাকার টিকিটে ৩০ লাখ টাকা জয়ের দাবি করলেও আনুষ্ঠানিক যাচাই-বাছাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত হানিফ মিয়ার বিজয়ী হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত নয়।